মতুয়ারা আশঙ্কা করছেন, এসআইআর-এর নিয়মে বহু মানুষের নাম সরকারি নথি থেকে বাদ যেতে পারে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 November 2025 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর-এর (SIR) বিরুদ্ধে টানা ১৩ দিনের অনশন (Matuas' hunger strike)। রবিবার রাতেই জানানো হয়েছিল— তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) চিঠিকে সম্মান জানিয়ে সোমবার দুপুর বারোটায় আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন মতুয়া মহাসংঘের সঙ্খাাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর (Mamata Bala Thakur)।
কিন্তু ঘোষণার আগেই আচমকা চরম শারীরিক অসুস্থতা। অনশন মঞ্চেই তড়িঘড়ি স্যালাইন। পরে অ্যাম্বুল্যান্সে করে ভর্তি বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সূত্রের খবর, মমতাবালার সম্মতিতেই পরবর্তীতে গোঁসাই পাগলরা অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন। অনশন মঞ্চে বসার আগে মমতাবালা জানিয়েছিলেন, “ওদের সঙ্গেই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।” কিন্তু কথা শেষ হওয়ার আগেই শরীর ভেঙে পড়ে।
মতুয়ারা আশঙ্কা করছেন, এসআইআর-এর নিয়মে বহু মানুষের নাম সরকারি নথি থেকে বাদ যেতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই ঠাকুরবাড়ির বড়মার ঘরের সামনে আমরণ অনশনে বসেছিলেন মমতাবালাপন্থী মতুয়ারা। যদিও এর মধ্যেই বিশেষ কারণে ১৫ জন অনশন ভেঙে উঠেছিলেন আগেই। মমতাবালা-সহ ১০ জন চালিয়ে যাচ্ছিলেন কঠোর অনশন।
রবিবার রাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। এর আগে টেলিফোনে অভিষেকের সঙ্গে কথাও হয় মমতাবালার। তার পরেই মমতাবালা জানিয়েছিলেন, সোমবার বেলা ১২টায় অনশন প্রত্যাহার করা হবে।
তবে সোমবার অনশন ভাঙার নির্ধারিত সময়ের আগেই মমতাবালা ঠাকুর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকরা মঞ্চেই স্যালাইন দেন। পরে গোঁসাইরা লেবুর রস খাইয়ে ভাঙিয়ে দেন তাঁর এবং অন্যান্যদের অনশন।
অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন রাজ্যসভার সাংসদ। অনশন মঞ্চে মমতাবালার স্বীকারোক্তি, “এত দিন কিছু না খেয়ে ছিলাম, তাই সমস্যা হয়েছে। দুর্বল লাগছে, আরও কিছু সমস্যা হচ্ছে।”
১৩ দিনের লড়াই শেষ হল হাসপাতালের বিছানায়। তবে এসআইআর নিয়ে মতুয়াদের আন্দোলনের ধাক্কা রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন আলোচনা তুঙ্গে।