আলাপ থেকে শুরু করে প্রেম, তারপর বিশ্বাস, সবই পরিকল্পনার অংশ ছিল বলে দাবি পুলিশের। এরপরই পাতা ফাঁদ। জানানো হয়, আয়কর দফতরের জটিলতায় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে সাহায্য করলে নাকি সমস্যা মিটে যাবে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 November 2025 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের খোঁজে অনলাইনে (Online) পরিচয়, তারপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা প্রেম। বিশ্বাসের সেই জালেই আটকে গেলেন সিঙ্গুরের এক তরুণী। ভরসা, অনুভূতি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন - সবকিছুই ভেঙে চুরমার। অভিযোগ, ম্যাট্রিমনি সাইটের (Matrimony Site) আলাপে প্রেমের গল্প সাজিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা চালাত এক চক্র। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের (Hooghly Police) তৎপরতায় সামনে এল সেই চক্রের কারবার।
২৯ বছরের ওই তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তর পরিচয় হয়েছিল গত ডিসেম্বরে। নাম দিয়েছিল ‘অনুপম রায়’। পেশা — বর্ধমানের চালকলের মালিক। আলাপ থেকে শুরু করে প্রেম, তারপর বিশ্বাস, সবই পরিকল্পনার অংশ ছিল বলে দাবি পুলিশের। এরপরই পাতা ফাঁদ। জানানো হয়, আয়কর দফতরের জটিলতায় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে সাহায্য করলে নাকি সমস্যা মিটে যাবে।
সেই আবেগেই প্রথমে কয়েক হাজার, পরে একের পর এক লেনদেন। শেষ পর্যন্ত তরুণী ও তাঁর পরিবার পাঠান প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। ফেরতের আশ্বাস হিসেবে পাঠানো হয় ব্যাঙ্ক ডিপোজিট স্লিপও। কিন্তু অঙ্গীকার পালনের বদলে মিলতে থাকে অজুহাত। তারপর আচমকাই বন্ধ হয় যোগাযোগ।
এরপর তরুণীর কাছে পথ একটাই ছিল - আইনের দ্বারস্থ হওয়া। অভিযোগ পেতেই তদন্তে নামে সাইবার সেল। গ্রেফতার হয় অভিষেক রায় নামে এক যুবক, যার অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল টাকা। সেখান থেকে উঠে আসে জাহির ও জামির আব্বাস নামের দুই ভাইয়ের নাম। মন্দারমণির একটি রিসর্ট থেকে ধরা হয় জামিরকে। বাড়ি খানাকুলে।
তদন্তকারীদের মতে, দক্ষিণ ভারতীয় এক মডেলের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে বানানো হত একের পর এক ভুয়ো প্রোফাইল—কখনও ‘অনুপম’, কখনও ‘রবি’, কখনও ‘সুজয়’। লক্ষ্য থাকত বিবাহযোগ্য তরুণী ও তাঁদের পরিবারের উপর আস্থা অর্জন করা। তারপর অর্থ হাতানো। শুধু সিঙ্গুর নয়, বর্ধমান-হাওড়া হয়ে দিল্লি পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল এই প্রতারণার জাল। ইতিমধ্যে উঠে এসেছে অন্তত ২০ জন তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতানোর তথ্য।
এই ঘটনার পরে সাধারণ মানুষকে সতর্কবার্তা দিয়েছে পুলিশ। অনলাইন পরিচয়ে আবেগে ভেসে না গিয়ে ধাপে ধাপে যাচাইয়ের পরেই বিশ্বাস গড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভিডিও কল, পরিচয় যাচাই এবং সরাসরি সাক্ষাৎ - এই তিনটি ধাপ না মেনে আর্থিক লেনদেন নয়।
ডিজিটাল দুনিয়ায় সম্পর্কের পথে এগোনোর আগে সতর্কতা আজ অত্যাবশ্যক, এই ঘটনাই আবার তা মনে করিয়ে দিল। প্রেমের বিশ্বাসের আড়ালেও যে দাপিয়ে বেড়ায় সাইবার অপরাধ, সিঙ্গুরের এই প্রতারণা তারই নিষ্ঠুর প্রমাণ।