Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

মুম্বই পুলিশের জালে BARC-এর 'গবেষক', ৩০ বছর ধরে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ, আসছিল বিদেশি ফান্ড-ও

পুলিশের সূত্রে খবর, ১৯৯৫ সাল থেকেই নানা বিদেশি সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচ্ছিল সে, বদলে পাচার করছিল গোপন পারমাণবিক তথ্য।

মুম্বই পুলিশের জালে BARC-এর 'গবেষক', ৩০ বছর ধরে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ, আসছিল বিদেশি ফান্ড-ও

ধৃত আখতার হুসেনি

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 3 November 2025 14:53

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের পারমাণবিক নিরাপত্তার (Nuclear data safety) বুকে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারত এই ঘটনা। সম্প্রতি মুম্বই পুলিশ (arrested by Mumbai Police) গ্রেফতার করেছে ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে নিজেকে ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার (BARC)-এর গবেষক (Fake scientist of BARC) বলে দাবি করছিলেন। সোমবার এই গ্রেফতারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় চিন্তিত ওয়াকিবহাল মহল।

জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম আখতার হুসেনি, ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) জামশেদপুরের বাসিন্দা। পুলিশের সূত্রে খবর, ১৯৯৫ সাল থেকেই নানা বিদেশি সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচ্ছিল সে, বদলে পাচার করছিল গোপন পারমাণবিক তথ্য।

মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সূত্রে খবর, আখতার ও তার ভাই আদিল হুসেনি প্রথমে কয়েক লক্ষ টাকার ফান্ড পেত। কিন্তু ২০০০ সালের পর সেই অঙ্ক বেড়ে কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই টাকাগুলি ভারতীয় পারমাণবিক স্থাপনাগুলির নকশা ও ব্লুপ্রিন্টের বিনিময়েই এসেছিল তাঁদের কাছে।

পুলিশ হুসেনির কাছ থেকে ১০টিরও বেশি মানচিত্র ও তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করেছে। এছাড়া তার কাছ থেকে একাধিক নকল পাসপোর্ট, আধার ও প্যান কার্ড, এমনকী একটি ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের একটি ভুয়ো আইডি কার্ডও মিলেছে। একটিতে তার নাম লেখা আলি রেজা হুসেন, আরেকটিতে আলেকজান্ডার পালমার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আখতার বহু বছর ধরে ভুয়ো পরিচয়ে দেশজুড়ে ঘুরে বেড়াতেন। ২০০৪ সালে দুবাই থেকে তাঁকে ডিপোর্ট করা হয়, কারণ সেখানেও তিনি নিজেকে 'গোপন বৈজ্ঞানিক নথি থাকা গবেষক' বলে দাবি করেছিলেন।

পুলিশের তদন্তে আরও প্রকাশ পেয়েছে, আখতার ১৯৯৬ সালে জামশেদপুরে নিজের পৈতৃক বাড়ি বিক্রি করে দেন, কিন্তু সেই পুরনো ঠিকানাই ভুয়ো পাসপোর্ট বানাতে ব্যবহার করেন। ভাই আদিলের মাধ্যমে তাঁদের যোগাযোগ হয় মুনাজ্জিল খান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে, যিনি তাঁদের দু’টি নকল পাসপোর্ট তৈরি করে দেন - একটিতে নাম হুসেনি মোহাম্মদ আদিল, আর অন্যটিতে নাসিমুদ্দিন সইদ আদিল হুসেনি।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, এই দুই ভাই সম্ভবত পাকিস্তানে গিয়েছিলেন এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর সঙ্গে যোগাযোগও থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুম্বই পুলিশ ইতিমধ্যেই আখতারের একটি ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে। তারা এখন ওই ব্যাঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ লেনদেনের নথি চেয়ে পাঠিয়েছে। এছাড়া, যে সব পুরনো অ্যাকাউন্ট তারা বন্ধ করে দিয়েছে, সেগুলির রেকর্ডও যাচাই করা হচ্ছে পুরো টাকার গতিপথ জানতে।

তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ‘ভুয়ো গবেষক’ বহু বছর ধরে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিপজ্জনক খেলায় মেতেছিলেন। সমস্ত তথ্য এবার কড়া নজরে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।


```