সরকারের সচেতনতা প্রচারের পরও মানুষের প্রবণতা যে কমেনি, তার প্রমাণ দিল মধ্যপ্রদেশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 October 2025 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বেশ কিছু জেলায় লিঙ্গ বৈষম্য (gender ratio in India) প্রকট। তাই এই দেশে গর্ভস্থ ভ্রূণের (gender determination of fetus) লিঙ্গ নির্ধারণ আইনত অপরাধ এবং তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ । তা নিয়ে বহুবছর ধরে প্রচার করে আসছে সরকার। তা নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও লিঙ্গ নির্ধারণের প্রবণতা যে মানুষের মধ্যে কমেনি, তার প্রমাণ দিল মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh)।
ঘটনাটি ঘটেছে মোরেনায়। অভিযুক্তের নাম সঞ্জু শর্মা (৩০)। পেশায় ওই ব্যক্তি প্রাক্তন এক পিয়ন। বহুদিন ধরে ডাক্তার (Fake doctor) সেজে অবৈধভাবে গর্ভস্থ ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের পরীক্ষা (Pre-birth Gender Test) চালাচ্ছিল।
গোয়ালিয়র ও মোরেনা জেলার স্বাস্থ্যবিভাগের যৌথ দল, সমাজকর্মী মীনা শর্মা, ও পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার রাতে এই অভিযান চালানো হয়। হাতে নাতে ধরা পড়েন ওই ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটে জৌরা রোডের গাদোরাপুরা এলাকায়।
জানা গিয়েছে, সঞ্জু জেলা শিক্ষা দফতরে বিলগাঁও মিডল স্কুলে এক সময়ে পিয়ন হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিজেকে 'ডাক্তার' বলে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা চালাতেন।
মোরেনার প্রধান স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা আধিকারিক ডাঃ পদ্মেশ উপাধ্যায় জানান, “জেলা কালেক্টর লোকেশ জাঙ্গিদের নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর একটি ডিকয় টিম পাঠানো হয়। সঞ্জুকে হাতেনাতে ধরতে এক মহিলা পুলিশকে সাধারণ পোশাকে পাঠানো হয়েছিল।”
টিম পৌঁছে দেখে, সঞ্জু শর্মা একটি পোর্টেবল আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানেই তাকে হাতে নাতে পাকড়াও করা হয়।
পরে পুলিশ আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনটি বাজেয়াপ্ত করে এবং অভিযুক্তকে মোরেনা থানার হাতে তুলে দেয়।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সঞ্জু শর্মাকে অবৈধ কাজের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়। তবু তিনি নিজের নামের পাশে 'ডাঃ' যোগ করে এলাকায় অবৈধভাবে চিকিৎসা করতেন বলে অভিযোগ।
গোয়ালিয়র স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তা ডা. প্রভাল প্রতাপ সিং জানান, “আমরা কয়েক মাস ধরে ওঁকে নজরে রেখেছিলাম। প্রায় ছয় মাস আগে জয়পুরে এক ব্যক্তি ধরা পড়ে, যে একটি পোর্টেবল আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন বিক্রি করছিল। তার কাছে সঞ্জু শর্মার ছবি পাওয়া যায়। তখন থেকেই ওঁর গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগেও ২০২৫ সালের ২ মে একই ধরনের অপরাধে পঙ্কজ তিওয়ারি ও এক আশাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সঞ্জু শর্মার নেতৃত্বাধীন এই চক্রটি দ্বিতীয় দল।”
সমাজকর্মী মীনা শর্মা জানান, “এই চক্রের সদস্যরা পোর্টেবল মেশিন নিয়ে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করত। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য তারা ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা নিত।
যদি ভ্রূণটি কন্যা হয়, তাহলে তারা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে গর্ভপাতের ব্যবস্থা করে দিত। এই নেটওয়ার্ক উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও দিল্লি - এই পাঁচ রাজ্যে ছড়িয়ে আছে।”
মোরেনায় এখনও আশঙ্কাজনক লিঙ্গ অনুপাত
চিকিৎসা আধিকারিক ডা. উপাধ্যায়ের বক্তব্য, “মোরেনা জেলা বহু বছর ধরেই রাজ্যের সবচেয়ে কম নারী-পুরুষ অনুপাতের এলাকাগুলির একটি। ২০০১ সালের জনসংখ্যা অনুসারে প্রতি ১০০০ পুরুষে মাত্র ৮২২ জন মহিলা ছিল। ২০১১ সালে তা বেড়ে হয় ৮৪০। এখন কিছুটা উন্নতি হয়ে ৯২২-এ পৌঁছেছে, তবু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু গ্রামে এখনও প্রতি ১০০০ পুরুষে মাত্র ৫৪১ জন নারী রয়েছে। এই কারণেই প্রশাসন অবৈধ লিঙ্গ নির্ধারণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।”