
শেষ আপডেট: 27 March 2024 12:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের মুখে নারদকাণ্ডে নতুন করে তৎপর সিবিআই । ফের একবার ম্যাথু স্যামুয়েলকে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁকে নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিবিআই সূত্রের খবর, নারদকাণ্ডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের হাতে নতুন করে কিছু তথ্য প্রমাণ এসেছে। আর সেই সূত্র ধরেই স্যামুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই। আগামী ৪ এপ্রিল তাঁকে নিজাম প্যালেসে তলব করা হয়েছে।
২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে আসে নারদ স্টিং অপারেশনের ভিডিও। যদিও দাবি করা হয়, ২০১৪ সালে গোপন ক্যামেরায় ভিডিও তোলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে তৃণমূল কংগ্রেসের মুকুল রায়, সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী, সুলতান আহমেদ, মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং ইকবাল আহমেদকে টাকা নিতে দেখা যায়। সাংবাদিক হিসাবে পরিচিত ম্যাথুর নেতৃত্বেই স্টিং অপারেশন চালানো হয়েছিল। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
২০১৬ সালের ১৭ জুন নারদ স্টিং অপারেশনে তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯ জুন ম্যাথু স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে নিউ মার্কেট থানায় এফআইআর দায়ের করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। যার জেরে ২৩ জুন ম্যাথুকে সমন পাঠায় কলকাতা পুলিশ। এদিকে গ্রেফতারির আশঙ্কায় ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্টটের দ্বারস্থ হন ম্যাথু। ওই বছরেই অগাস্টের ৫ তরিখ ম্যাথুর বিরুদ্ধে যাবতীয় পুলিশি পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ দেয় আদালত। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের মার্চে নারদকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত।
এদিকে নারদকাণ্ডে পরবর্তী সময়ে সিবিআইয়ের পাশাপাশি তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও। ঘটনায় চলতে থাকে ধরপাকড়ও। সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন তৎকালীন বর্ধমানের পুলিশ সুপার এসএমএইচ মির্জা। পরবর্তীকালে ২০২১ সালে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং মদন মিত্রকে। পরে অবশ্য জামিন পান তাঁরা।
এবার চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে ফের একবার নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠল সিবিআই। ম্যাথ স্যামুয়েলকে আগামী ৪ এপ্রিল কলকাতার নিজাম প্যালেসের সিবিআই দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আর ভোটের ঠিক ১৫ দিন আগে হঠাৎ নারদ মামলায় সিবিআইয়ের তৎপরতা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।