হঠাৎ বিকট আওয়াজ, তারপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী- মুহূর্তে এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। কেন বাড়ির ভেতরে বারুদ রাখা ছিল, কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 November 2025 21:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরসন্ধায় আচমকা ভয়াবহ শব্দে কেঁপে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ (Khardaha Blast)। বন্দিপুর পঞ্চায়েতের ঠাকুর কলোনির এক বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়াল ব্যাপক আতঙ্ক। হঠাৎ বিকট আওয়াজ, তারপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী- মুহূর্তে এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। কেন বাড়ির ভেতরে বারুদ রাখা ছিল, কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে সেখানে চার বছর ধরে থাকতেন অভিজিৎ সিং নামে এক ব্যক্তি (Avijit Singh Arrested)। এলাকাবাসীদের দাবি, 'হঠাৎ জোর আওয়াজে চমকে উঠে বাইরে এসে দেখেন অভিজিতের ঘর থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে।' তাঁদের একজন বলেন, "কখনও ভাবিনি এমন কিছু ঘটতে পারে। শুনেছি ঝালাইয়ের কাজ করেন, কিন্তু বারুদ রাখার কথা কেউ বলেনি।"
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় রহড়া থানার পুলিশ ও বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অফিসাররা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ঘরের ভেতর বারুদই বিস্ফোরণের কারণ (Khardaha Blast)। এসিপি তনয় চট্টোপাধ্যায় জানান, “নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হবে। রিপোর্ট এলে নিশ্চিতভাবে কারণ জানা যাবে। বাড়ির ভিতর বাজি তৈরির উপকরণ পাওয়া গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অভিযুক্ত অভিজিৎকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও তাঁর স্ত্রীর দাবি, কালীপুজোর সময় তুবড়ি তৈরি করতে কিছু মশলা বাড়িতে রাখা ছিল। একই দাবি করেন অভিযুক্ত।
যদিও স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ, শুধু বাজির মশলা নয়, আরও কিছু বিস্ফোরক থাকতে পারে। কারও কারও ধারণা, কোনও ভারী জিনিস ওপর থেকে পড়ে বা চাপ পড়ায় বারুদে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। আবার কয়েকজন বাসিন্দা বোমা থাকার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘর থেকে বাজির মতো বেশ কয়েকটি উপকরণ উদ্ধার করেছে। পরিবারের সদস্যদেরও আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে এলে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনও ধরনের গুজব বা উত্তেজনা না ছড়ায়।