দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত অগাস্ট মাসে গাড়ি বিক্রি হয়েছে মোট ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৭০৪ টি। মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে একথা জানাল মারুতি-সুজুকি। ২০১৯ সালের অগাস্টে ওই সংস্থার গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ৯৪ হাজার ৭২৮ টি। অর্থাৎ করোনা অতিমহামারীর ধাক্কায় যখন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বেহাল, তখনই বিক্রি বাড়িয়েছে মারুতি-সুজুকি।
গত মাসে মিনি এবং কমপ্যাক্ট সাব সেগমেন্টের গাড়িই বেশি বিক্রি করেছে মারুতি-সুজুকি। অগাস্টে ইউটিলিটি ভেহিকলও ভাল বিক্রি হয়েছে। ইউটিলিটি ভেহিকলের মধ্যে আছে ২০২০ ভিতারা ব্রেজ্জা, নতুন লঞ্চ করা গাড়ি ২০২০ এস-ক্রস, এরতিগা এবং এক্সএলসিক্স। অগাস্টে ইউটিলিটি গাড়ির বিক্রি বেড়েছে ১৩.৫ শতাংশ।
মারুতি-সুজুকি জানিয়েছে গত মাসে তারা ৭৯২০ টি গাড়ি রফতানি করেছে। ওই সংস্থার রফতানির হার কমেছে ১৫.৩ শতাংশ। দেশীয় বাজারে বিক্রি এবং বিদেশে রফতানি, দু'ইয়ে মিলে মারুতি-সুজুকির বিক্রি গত বছরের অগাস্টের তুলনায় বেড়েছে ১৭.১ শতাংশ।
কোভিড ১৯ অতিমহামারীর ফলে অন্যান্য গাড়ি নির্মাতা সংস্থার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মারুতি-সুজুকিও। কিন্তু অগাস্টের বিক্রির পরিমাণ দেখে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ধীরে ধীরে চাঙ্গা হচ্ছে গাড়ির বাজার।
দেশের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কে ভি সুব্রমনিয়ম আশ্বাস দিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির বিকাশ তলানিতে পৌঁছানোর পরে ফের ঘুর দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে। রেলে বেড়েছে পণ্য পরিবহণ। বিদ্যুতের ব্যবহারও বেড়েছে।
তাঁর কথায়, "একসময় কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছিল। আমরা জানতাম বিকাশের হার কমবে। কিন্তু আশার কথা হল, অর্থনীতির ফের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা দিয়েছে।" এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রেলে কী পরিমাণে পণ্য পরিবহণ করা হচ্ছে, তা থেকে আন্দাজ করা যায় অর্থনীতির হাল কেমন। বর্তমানে রেলে পণ্য পরিবহণের পরিমাণ গত বছর জুলাই মাসের ৯৫ শতাংশ। গত বছর অগাস্টের তুলনায় এবছর অগাস্টের প্রথম ২৬ দিনে পণ্য পরিবহণ হয়েছে ছয় শতাংশ বেশি। বিদ্যুতের চাহিদাও গত বছরের তুলনায় মাত্র ১.৯ শতাংশ কম।
অপর একটি তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে প্রধান সেক্টরগুলিতে সংকোচনের হার ক্রমশ কমছে। পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে যে আটটি কোর সেক্টর রয়েছে, তাদের উৎপাদন এপ্রিলে কমেছিল ৩৮ শতাংশ। মে মাসে কমেছিল ২২ শতাংশ। জুন মাসে কমেছিল ১৩ শতাংশ। জুলাই মাসে কমেছিল ৯.৬ শতাংশ।
প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার কথায়, "সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। লক্ষণীয় বিষয় হল, লকডাউন সত্ত্বেও প্রথম ত্রৈমাসিকে কৃষি ক্ষেত্রে বিকাশ হয়েছে ৩.৪ শতাংশ। তার অর্থ সরকার যে সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছিল, তাতে কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।"