
শেষ আপডেট: 13 May 2022 07:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৈবাহিক ধর্ষণ (Marital Rape) নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে মামলা চলছে দিল্লি হাকোর্টে। বর্তমানে দেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে যে আইন আছে, তাতে বলা হয়েছে, স্ত্রী যদি ১৮ বছরের বেশি বয়সি হন, তা হলে স্বামী তাঁর বিনা অনুমতিতে যৌন সঙ্গম করলেও অপরাধী হবেন না। হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়েছিল, বৈবাহিক ধর্ষণকেও (Marital Rape) অপরাধ বলে গণ্য করা হোক। সেই আবেদনের ওপর রায় দিতে গিয়ে একমত হতে পারেননি বিচারপতি রাজীব শাকধের এবং বিচারপতি সি হরিশঙ্কর। ফলে জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টে।
দিল্লি হাইকোর্টে এই মামলায় রায় দানের সময় বিচারপতি রাজীব শাকধের জানান, বৈবাহিক ধর্ষণ অবশ্যই অপরাধ। স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া শারীরিক সম্পর্ক করলে স্বামীর বিরুদ্ধে আইনত দণ্ডনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিচারপতি শাকধের এও বলেন, ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনে বৈবাহিক ধর্ষণকে (Marital Rape) যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা সংবিধানের ১৪, ১৯ এবং ২১ নম্বর ধারার বিরোধী। অর্থাৎ বিচারপতির বক্তব্য, ওই ছাড় দেওয়ার ফলে সমতার ধিকার, বাক্স্বাধীনতা, জীবনের ধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।
তবে তাঁর সঙ্গে সহমত হননি বিচারপতি সি হরিশঙ্কর। তিনি বলেন, 'একজন যৌনকর্মী বা স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া মহিলা তাঁর অসম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে না হতে পারেন, কিন্তু একজন বিবাহিত মহিলা পারেন না!'
বৈবাহিক ধর্ষণ (Marital Rape) মামলার মীমাংসা দিল্লি হাইকোর্টে না হয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলে যাওয়ায় রীতিমতো হতাশ মামলাকারী এবং আইনজীবীরা। তাঁরা বলেন, এই বিষয় নিয়ে এমন মতের ফারাক আশাতীত। বৈবাহিক ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাকে এক কথায় অপরাধ বলে চিহ্নিত করারই কথা ছিল আদালতের। তা না করে সাত বছর ধরে মামলা গড়াল, তার পরেও স্পষ্ট রায় এল না।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিচারপতিরা বৈবাহিক ধর্ষণ (Marital Rape) মামলার রায় স্থগিত রেখেছিলেন। তার আগে ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এসম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারকে তার অবস্থান জানাতে বলে। কেন্দ্রীয় সরকার তার অবস্থান জানাতে দেরি করায় অসন্তুষ্ট হন বিচারপতিরা। এবার মীমাংসাই হল না, মামলা চলে গেল সুপ্রিম কোর্টে।
কেন্দ্রীয় সরকার বলে, বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। কারণ এসম্পর্কে যে রায় দেওয়া হবে, তা দেশের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনকে প্রভাবিত করবে। কর্নাটক হাইকোর্ট ইতিমধ্যে বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে কঠোর মতামত প্রকাশ করেছে। বিচারপতিরা বলেছেন, বিবাহ মানে পাশবিক প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার লাইসেন্স নয়।
শিবকুমারের জ্বলন্ত চিতার পাশে একা দাঁড়িয়ে জাকির হুসেন, ফের সম্প্রীতির ফ্রেম খুঁজে পেল দেশ