অভিযোগ উঠছে, তিন তিনবার করে ভোটারদের বাড়ি যাওয়ার পরও বেশ কিছু জেলায় মৃত, শিফটেড এবং ডুপ্লিকেট ভোটারদের পরিসংখ্যান আপলোড করছেন না বিএলও-রা। যে কারণে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)।

স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার সুব্রত দত্ত
শেষ আপডেট: 30 November 2025 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ৯০ শতাংশ এনুমারেশন ফর্মের ডিজিটাইজেশনের (Enumeration Form) কাজ শেষ হলেও এ পর্যন্ত মাত্র ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার মৃত ভোটারকে (Dead Voter) চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানান্তরিত ভোটার ও ডুপ্লিকেট ভোটারের (Duplicate Voter) সংখ্যা মিলিয়ে ৩৫ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও বাদ গিয়েছে। অভিযোগ উঠছে, তিন তিনবার করে ভোটারদের বাড়ি যাওয়ার পরও বেশ কিছু জেলায় মৃত, শিফটেড এবং ডুপ্লিকেট ভোটারদের পরিসংখ্যান আপলোড করছেন না বিএলও-রা। যে কারণে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)।
আর ঠিক সেই কারণেই বেশ কয়েকজন বিএলও-র কাজের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দিল্লির নিয়োগ করা স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)। মূলত দু'টি জেলা, কোচবিহার আর মালদহ নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন তিনি। শনিবার কমিশনের নব নিযুক্ত স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত এবং সিইও মনোজ আগরওয়ালের পৌরোহিত্যে ১২ জন রোল অবজার্ভার তথা সিনিয়র আইএএস অফিসারকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে কতগুলি বিষয় সুনির্দিষ্ঠ ভাবে উঠে আসে। যার মধ্যে অন্যতম ছিল এই পরিসংখ্যান না পাওয়ার বিষয়টি।
সুব্রত গুপ্ত বৈঠকে বলেন, “সিইও বলছেন তারপরও কেন মৃত, শিফটেড এবং ডুপ্লিকেট ভোটারদের পরিসংখ্যান আপলোড করা হচ্ছে না? আর কার নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছেন বিএলও-রা? যারা নেই, যাদের পাওয়া যাচ্ছে না সেই তথ্য আপলোড কেন করছেন না? আর কে বললে করবেন?”
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে কেন বা প্রচ্ছন্নে কাদের কথা বলতে চাইলেন সুব্রত গুপ্ত! সূত্রের খবর, কমিশন খবর পেয়েছে, অনেক জায়গায় তিনবার করে ভিজিট করার পরেও চূড়ান্ত তালিকা আপলোড করতে দেরি করছে। এমনও খবর পাওয়া গিয়েছে যে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারাই নাকি বিএলও-দের বলছেন এখন কিছু আপলোড করার দরকার নেই, একেবারে শেষ মুহূর্তে যখন বলা হবে তখন করলেও হবে।
কমিশনের বক্তব্য, যেহেতু এখনও একাধিক জেলায় সংখ্যাটা আপলোড করা হচ্ছে না, তাই স্বাভাবিকভাবেই আসল সংখ্যাটা পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত ঘুরিয়ে বিএলও-দের (BLO) শুনিয়ে দিলেন, "কার নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন।"
শনিবার হওয়া সেই বৈঠকে আরও কতগুলি বিষয় সুনির্দিষ্ঠ ভাবে উঠে আসে। তা হল, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও এবং স্বাভাবিক নিয়মে যে রিভিশন হয় তাতেও যে সংখ্যায় নাম বাদ যায়, সেই তুলনায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় উঠে আসা তথ্য সন্তোষজনক নয়।
স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যে সব এলাকায় সন্তোষজনক কাজ হয়নি সেখানকার বিএলওদের ভূমিকা ক্ষতিয়ে দেখা হবে।
আজ রবিবার থেকে অবজার্ভাররা জেলায় জেলায় যাচ্ছেন। প্রতিটি জেলার জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক, ইআরও, সবার সঙ্গে তাঁরা কথা বলবেন। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও বৈঠকও করবেন। শুধু তাই নয় এনুমারেশন ফর্ম যা জমা হয়েছে এবং ডিজিটাইজেশন হয়েছে তার স্যাম্পেল চেকিংও হবে।