ঘটনাটি সামনে আসতেই বহু মানুষেরই মনে ফিরে এসেছে ২০২২ সালের এপ্রিলের সেই রাত—যখন বীরভূমের ইলামবাজারে অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের গাড়িকে ধাক্কা দেয় একটি ডাম্পার।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 10 December 2025 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালি কাণ্ডে (Sandeshkhali accident) জেলবন্দি শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে চলা মামলার অন্যতম সাক্ষী তিনি। বুধবার সকালে আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে আচমকা মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হলেন ভোলানাথ ঘোষ। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাল ভোলার ছোট ছেলে ও গাড়ির ড্রাইভার। গুরুতর জখম ভোলা নিজে।
ঘটনাটি সামনে আসতেই বহু মানুষেরই মনে ফিরে এসেছে ২০২২ সালের এপ্রিলের সেই রাত—যখন বীরভূমের ইলামবাজারে অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের গাড়িকে ধাক্কা দেয় একটি ডাম্পার (Anubrata Mandal bodyguard accident)। সেই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল তাঁর স্ত্রী ও ছোট মেয়ে। সায়গলও গুরুতর জখম হয়েছিলেন।
অনেকের মতে, সন্দেশখালির ঘটনার সঙ্গে সেই পুরনো ছবি যেন মিলে যাচ্ছে অদ্ভুতভাবে।
ভোলার বড় ছেলের অভিযোগ আরও ভয়াবহ, “দুর্ঘটনা হলে একবার ধাক্কা লাগে। এখানে লরি তিন-তিনবার ধাক্কা মেরেছে। ইচ্ছে করেই গাড়িটা পুকুরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। বাবাকেই মারতে চেয়েছিল। জেল থেকেই সব করেছে শাহজাহান।”
কাকতালীয়ভাবে যিনি প্রতিদিন গাড়ির সামনের আসনে বসতেন, সেই ভোলা এ দিন পিছনের আসনে বসেছিলেন। সামনে বসেছিল তাঁর ছেলে। আর তাতেই বেঁচে যান ভোলা। না হলে তিনিই হয়তো নিহত হতেন—পরিবারের দাবি, এই রহস্যই ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে আরও জোরদার করছে।
তিন বছর আগের এপ্রিলেও এমনই ছবি দেখা গিয়েছিল। অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষীর গাড়িতে মাঝরাতে ধাক্কা দিয়েছিল ডাম্পার। মারা গিয়েছিল তাঁর শিশু কন্যা ও স্ত্রী। গাড়ির আসন বদলে বরাতজোরে বেঁচেছিলেন সায়গলও!
সায়গলকে পরে গরুপাচার মামলায় গ্রেফতার করে সিবিআই। সেই দুর্ঘটনাকেও ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল রাজনীতি। সিবিআই তদন্তের দাবি উঠেছিল বিজেপি নেতা অনুপম হাজরার তরফে। সে সময় সোশ্যাল মাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, সিবিআই তদন্তই সব পরিষ্কার করবে।” বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও বলেছিলেন, “ঘটনার পিছনে পরিকল্পিত ছক থাকতে পারে।”
কে এই ভোলানাথ ঘোষ?
শাহজাহানের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিলেন ভোলা। পরে তাঁর “অনৈতিক কাজকর্মের” প্রতিবাদ করেন। অভিযোগ, সেই থেকেই রাতের অন্ধকারে বাড়িতে হামলা, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়। যে কারণে পরিবার নিয়ে এলাকা ছাড়া হতে হয়েছিল ভোলাকে। শাহজাহান গ্রেফতার হওয়ার পরেই এলাকায় ফিরেছিলেন তিনি।
ইডির মামলায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য চাপ, ভয়—এই সব অভিযোগ আগেই জানিয়েছিলেন ভোলার পরিবার।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, ভোলা আদালতে মুখ খুললে চাপে পড়তে পারতেন শাহজাহান। সে কারণেই কি সামনে এল এই রহস্যদুর্ঘটনা? ভোলার ছেলের কথায়, “বাবাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনাই ছিল। জেল থেকে বসে করেছে শাহজাহান।”
ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তাল সন্দেশখালি, এটা কি নেহাতই পথদুর্ঘটনা, নাকি আরও বড় কোনও ছক?