বিধানসভার লবিতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী, পড়ে যান লবিতে। বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী ও বাকিরা ধরাধরি করে তুললেন অ্যাম্বুল্যান্সে।

ধরাধরি করে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হয় বিধায়ককে।
শেষ আপডেট: 23 June 2025 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী! আজ, সোমবার সকালে বিধানসভার লবিতে হঠাৎ করেই পড়ে যান তিনি। বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি তখন সেখানেই ছিলেন, তিনি-সহ আরও কয়েকজন মিলে ধরাধরি করে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলেন তাঁকে। নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।
কী ঘটেছিল এদিন?
জানা গেছে, নিরিবিলি লবি দিয়ে নিজের কক্ষের দিকে এগোচ্ছিলেন বলাগড় কেন্দ্রের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। আশপাশে তখন খুব একটা ভিড় ছিল না, বিধানসভা করিডর ছিল প্রায় শুনশান। হঠাৎ করেই ঘটে বিপত্তি, চলতে চলতেই হঠাৎ মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে যান প্রবীণ এই বিধায়ক।
পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন। আশপাশের ঘর থেকে আওয়াজ শুনে দ্রুত ছুটে আসেন অন্য বিধায়করা। নওসাদ সিদ্দিকি ছুটে এসে তাঁর পাশে বসে চোখে-মুখে জল দেন, জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান কুলটি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা পেশায় চিকিৎসক ডা. অজয় পোদ্দার। তিনিই প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, সাহায্যে এগিয়ে আসেন তৃণমূল বিধায়ক রহিমা মণ্ডল-সহ আরও কয়েকজন সহকর্মী।
বিধানসভার মেডিকেল ইউনিটে অবিলম্বে খবর পাঠানো হয়। চিকিৎসা বিভাগের কর্মীরা এসে প্রাথমিক পরীক্ষা করে জানান, মনোরঞ্জনবাবুর রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার অনেকটাই বেশি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রাও পরিমাপ করা হয়। দীর্ঘক্ষণ জল দেওয়া, হাত-পা মালিশ করা, সব চেষ্টা সত্ত্বেও জ্ঞান ফেরেনি।
অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে এসএসকেএম অথবা পিজি হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। প্রাথমিক অনুমান, হাই ব্লাড প্রেসারের ফলেই তিনি জ্ঞান হারিয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে জানিয়েছেন, পড়ে যাওয়ার কিছু সেকেন্ড আগে তাঁকে মনে হচ্ছিল হঠাৎ যেন ভারসাম্য হারাচ্ছেন। তিনি যেন কিছু একটা ধরার চেষ্টা করেছিলেন, সম্ভবত পাশের দেওয়াল বা রেলিং। কিন্তু ততক্ষণে মাথা ঘুরে যায়, এবং পরক্ষণেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
সত্তরোর্ধ্ব এই বিধায়ক শুধু তাঁর শারীরিক স্বাস্থ্য নয়, রাজনৈতিক ভাষ্য ও অবস্থানের জন্যও বহুবার সংবাদের শিরোনামে এসেছেন। কখনও নিজের দলের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান, কখনও আবার সামাজিক মাধ্যমে বিদ্রোহী পোস্ট। দলের এক নেত্রীকে দুর্নীতির অভিযোগে প্রকাশ্যে ‘অসৎ’ বলার ঘটনাও রয়েছে তাঁর খাতায়। বিভিন্ন সময় তাঁর মন্তব্যে দলকে অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।