
শেষ আপডেট: 22 July 2023 02:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা কাটা মুন্ডু! মাথাটুকুই আছে শুধু, ধড় কোথায় তা কেউ জানে না।সেই কাটা মাথা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বাঁশের তৈরি বেড়ার গায়ে (video of chopped head)! ঠিক যেন কোনও রহস্য-রোমাঞ্চ কিংবা ভৌতিক গল্পের শুরু! কিন্তু না, এই গল্প আসলে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর ভারতের এক চূড়ান্ত লজ্জাজনক অধ্যায়ের, যা বিশ্বের দরবারে ক্রমশই হেঁট করে দিচ্ছে দেশের মাথা।
ঠিক দিন দুয়েক আগেই মণিপুরে (Manipur violence) দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। এবার সেই সোশ্যাল মিডিয়াতেই মণিপুরের আরও এক ভয়ঙ্কর ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হল। তাতে দেখা যাচ্ছে, মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার একটি বাড়ির সামনে বেড়া থেকে ঝোলানো রয়েছে এক যুবকের কাটা মাথা।
সূত্রের খবর, মাথাটি যাঁর, তাঁর নাম ডেভিড থিয়েক, তিনি কুকি (Kuki) সম্প্রদায়ভুক্ত। জানা গেছে, এই ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২ জুলাই। সেদিন কুকি এবং মেইতেইদের মধ্যে লড়াইতে প্রাণ গিয়েছিল ৩ জনের। তাঁদেরই একজন ছিলেন ডেভিড। বিজয়ের চিহ্ন হিসেবেই হোক, বা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে, ডেভিডের দেহ থেকে মাথাটি কেটে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল একটি বাড়ির সামনের বেড়া থেকে। নেটমাধ্যমে সেই ভিডিও দেখে শিউরে উঠছেন মানুষজন। যদিও এই ঘটনায় প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।
সেই ভিডিওতে দুই কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত মহিলাকে বিবস্ত্র করে রাস্তা দিয়ে হাঁটাতে দেখা গিয়েছিল জনতাকে। পরে জানা যায়, গণধর্ষণ করা হয়েছে দুজনকে। এক নিগৃহীতার বাবা এবং ভাইকে খুন করা হয়েছে তাঁর চোখের সামনে। জানা গিয়েছিল, ইন্টারনেট বন্ধ থাকার ফলে ভিডিওটি সম্প্রতি সামনে এলেও ঘটনাটি আসলে মে মাসের।
সেই ঘটনা সামনে আসতেই তার বীভৎসতায় শিউরে উঠেছিল সারা দেশের মানুষ (Manipur video)। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল সারা দেশ। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের পদত্যাগের দাবিও তুলেছিল বিরোধীরা। এই ঘটনা নিয়েই মণিপুর প্রসঙ্গে দীর্ঘ ৭৯ দিনের নীরবতা ভেঙে মুখ খুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে আখ্যা দেন তিনি। এরপর বুধবারই গ্রেফতার করা হয়েছিল ঘটনার মূল অভিযুক্ত মেইতেই (Meitei) সম্প্রদায়ভুক্ত যুবক হেরোডাসকে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারপরেই ক্ষিপ্ত জনতা মহিলাদের নেতৃত্বে হেরোডাসের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।
এমনকী, এই ইস্যুতে বিক্ষোভের জেরেই শুক্রবার বেলা বারোটা পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় সংসদের বাদল অধিবেশন। অচলাবস্থা তৈরি হয় রাজ্যসভাতেও। অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধীরা মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা দাবি করে। সেই নিয়ে গোলমাল শুরু হলে দুপুর ২টো পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত করে দেন সভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড়।
মণিপুরের গণধর্ষিতার স্বামী কার্গিল যুদ্ধে ভারতের সেনা ছিলেন! স্ত্রীকে বাঁচাতে পারলেন না