দ্য ওয়াল ব্যুরো : মাটি খুঁড়ে গুপ্তধনের সন্ধান। ঈশপ বা পঞ্চতন্ত্রের গল্পে তো চেনা ছবি। বাস্তবেও এমন হতে পারে, কল্পনাও করেননি হয় তো উত্তরপ্রদেশের হরদইয়ের ব্যাক্তিটি। হ্যাঁ, বাস্তবে এমনই ঘটেছে বৃহস্পতিবার। মাটি খুঁড়ছিলেন তিনি, বাড়ি বানাবেন বলে। সেই এলাকায় অনেকেই নিজের বাড়ি নিজেই বানিয়ে নেন মাটি খুঁড়ে। সেখানেই তাঁর হাতে ২৫ লক্ষ টাকার সম্পদ উঠে আসে। গ্রামবাসীদের মুখে মুখে সে খবর ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময়ও লাগেনি।
পুলিশের কানে সে খবর যেতেই, হরদইয়ের পুলিশ সুপার অলোক প্রিয়দর্শী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। জেরা করেন সেই ব্যাক্তিকে। প্রথমে তিনি অস্বীকার করলেও পরে সেই অমূল্য ধন সম্পত্তির কথা স্বীকার করে নেন। অমূল্য, কারণ যা পাওয়া গেছে, তা প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রায় ৬৫০ গ্রাম সোনা এবং ৪ কেজি ৫৩ গ্রাম রুপো পাওয়া গেছে মাটির নীচ থেকে। তবে আপাতত সেই ব্যাক্তি মোটেই খুশি নন। কারণ তাঁর থেকে তো সে সব সোনা দানা নিয়ে নিয়েছে পুলিশ!
কিন্তু কেন তাঁর কাছ রাখা গেল না সেই বিপুল পরিমাণ সম্পদ? ইন্ডিয়ান ট্রেজার ট্রোভ অ্যাক্ট, ১৮৭৮ অনুযায়ী তা রাষ্ট্রের সম্পদ। মাটির নীচ থেকে পাওয়া ১০ টা টাকাও রাষ্ট্রের সম্পদ। তা ফিরিয়ে দিতেই হবে রাষ্ট্রকে। এই অ্যাক্টের চার নম্বর ধারা অনুযায়ী মাটির নীচ থেকে পাওয়া যে কোনও কিছুই স্থানীয় আধিকারিককে ফিরিয়ে দিতেই হবে। নিজে থেকে না ফেরালে, তাঁকে নোটিশ দিতে পারে রাষ্ট্র, তখন তাঁকে সেই সম্পদ ফিরিয়ে দিতেই হবে রাষ্ট্রকে। এই অ্যাক্টেরই ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী আবার সম্ভাবনাও আছে, ওই সম্পদ অন্য কারও নয়, তা প্রমাণিত হলে রাষ্ট্র যদি চায় তবে তার কিছুটা যিনি খুঁজে পেয়েছেন, তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এখন দেখার এই ঘটনা যাঁর সাথে ঘটল, সেই ব্যক্তি আদৌ এই সৌভাগ্যের অধিকারী হন কি না!