পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের গলা ও কাঁধে গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল, যা দেখে খুনের সন্দেহ জোরালো হয়। এরপরই খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে দিনহাটা থানার পুলিশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 January 2026 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোচবিহারের দিনহাটায় (Coochbehar Dinhata) এমন এক নৃশংস ও বিভীষিকাময় ঘটনা সামনে এসেছে, যা শুনে স্তম্ভিত গোটা এলাকা। এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে খুন (Murder Incident) করার পর তাঁর দেহ বাড়িতে এনে মাংস খাওয়ার (Cannibalism) পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের - পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এমনই ভয়ংকর তথ্য!
দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধিমান মিত্র সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি দিনহাটার সীমান্তবর্তী এলাকা কুড়শা হাটের একটি প্রত্যন্ত শ্মশান থেকে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। কিন্তু মৃতদেহ পরীক্ষা করে যে তথ্য মেলে তা সহজে মেনে নেওয়ার মতো নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের গলা ও কাঁধে গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল, যা দেখে খুনের সন্দেহ জোরালো হয়। এরপরই খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে দিনহাটা থানার পুলিশ (Dinhata Police Station)। তদন্তের সূত্র ধরেই গ্রেফতার করা হয় ফিরদৌস আলম নামে এক যুবককে। জেরার সময় ধীরে ধীরে সামনে আসে একের পর এক শিউরে ওঠার মতো তথ্য।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত খুনের পর মৃত ব্যক্তির দেহ নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে কলতলায় দেহ পরিষ্কারও করে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের উদ্দেশ্য ছিল ওই মৃতদেহের মাংস খাওয়া। যেহেতু নিহত ব্যক্তি শ্মশানে থাকতেন এবং সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন, সেই কারণেই তিনি সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠেছিলেন বলে মনে করছে পুলিশ।
দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধিমান মিত্র জানান, “এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা। শ্মশান এলাকায় একটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে খবর আসার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় দেহের গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আশপাশে কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত জেরায় স্বীকার করেছে খুনের কথা। তবে কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা বা লাভের উদ্দেশ্য ছিল না। সে শুধু খুনের জন্যই খুন করেছে। শুধুমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তা থেকে মাংস খাওয়া। এটি বিরলের থেকেও বিরলতম ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ।
বর্তমানে অভিযুক্তকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর দিনহাটার মতো শান্ত এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এমন পাশবিক মানসিকতার প্রকাশ সমাজকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে - সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কোচবিহার জুড়ে।