দাগনভুঁইয়া থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে এই খুন করা হয়েছে এবং ঘটনার ধরন দেখে এটি পূর্বপরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে। নিহতের পরিবার এফআইআর দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি শুরু হয়েছে।

নিহত যুবক
শেষ আপডেট: 12 January 2026 23:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর (Bangladesh Minority Attack) হামলার ঘটনা ফের সামনে এল। চট্টগ্রামের দাগনভুঁইয়া এলাকায় নৃশংস হামলায় প্রাণ হারালেন ২৮ বছরের হিন্দু অটোচালক সমীর দাস (Autodriver Samir Das)। রবিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে সে দেশের সংখ্যালঘু সমাজে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিকল্পিতভাবেই সমীরের উপর হামলা চালানো হয়েছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে সমীর দাসকে মারধর করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খুনের পর অভিযুক্তরা সমীরের ব্যাটারি চালিত অটোটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
দাগনভুঁইয়া থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে এই খুন করা হয়েছে এবং ঘটনার ধরন দেখে এটি পূর্বপরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে। নিহতের পরিবার এফআইআর দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি শুরু হয়েছে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশ (Bangladesh) রাজনৈতিক ও সামাজিক টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে ইসলামপন্থী শক্তির পুনরুত্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারই প্রভাব পড়ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশেরও কম হিন্দু ও সুফি মুসলিম সম্প্রদায়, যাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা বাড়ছে। তাদের মতে, এই ধারাবাহিক হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতাই নয়, সংখ্যালঘুদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা ও ভয় তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরেও উত্তাপ বাড়ছে। ভারত সরকার আগেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লির অভিযোগ, হামলার ঘটনাগুলিকে অনেক সময় ব্যক্তিগত শত্রুতা বা রাজনৈতিক বিরোধ বলে খাটো করে দেখানো হচ্ছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত সপ্তাহে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার একটি উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতা আমরা বারবার দেখতে পাচ্ছি। এই ধরনের ঘটনাকে দ্রুত ও কঠোরভাবে দমন করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, এই হামলাগুলিকে ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কারণে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা চরমপন্থীদের আরও উৎসাহিত করে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায়। যদিও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস ভারতের অভিযোগকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছেন।
তবে সমীর দাসের মৃত্যুর মতো ঘটনা ফের প্রমাণ করছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রশ্নে বাস্তব উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। এর আগে সবথেকে বেশি তোলপাড় পড়েছিল এক কারখানার কর্মী দীপু দাসের খুনের ঘটনায়। তারপর এক হিন্দু সাংবাদিকও খুন হন বাংলাদেশে। এখন আবার অটোচালক সমীরের ঘটনা ঘটল।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।