দ্য ওয়াল ব্যুরো : নিউ জিল্যান্ডের বন্দুকবাজের প্রশংসা করে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এক কোম্পানির কর্মী। সঙ্গে সঙ্গে সেই কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ছিলেন বিদেশী। তাঁকে শুধু বরখাস্তই করা হয়নি, দেশেও ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে নিউ জিল্যান্ডে দু’টি মসজিদে হানা দেয় বন্দুকবাজ। এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে ৫০ জন নিহত হন। ২৮ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় নাগরিক গ্রেফতার হয়। তার নাম ব্রেনটন টারান্ট। পুলিশের ধারণা, দু’টি মসজিদে হামলা চালানোর পরে সে তৃতীয় কোনও লক্ষে আঘাত হানতে যাচ্ছিল। পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, সে তৃতীয় হামলার আগেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা অনেকের জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছি।
টারান্ট আর কোথায় আক্রমণ চালাতে যাচ্ছিল বুশ জানাননি। তিনি বলেছেন, মানুষকে ভয় পাইয়ে লাভ নেই। বুধবার নিহতদের কবর দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম সমাহিত করা হয়েছে ৪৪ বছরের খালেদ মুস্তাফা ও তাঁর ১৫ বছরের ছেলে হামজাকে। এদিন মেমোরিয়াল পার্ক সমাধিক্ষেত্রে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়ে শোকজ্ঞাপন করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির যে কোম্পানি থেকে এক ব্যক্তিকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তার নাম ট্রান্সগার্ড। সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত সপ্তাহের শেষে এক কর্মী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি নিউ জিল্যান্ডে বন্দুকবাজের হানা নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন।
ট্রান্সগার্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর গ্রেগ ওয়ার্ড বলেন, কেউ যদি সোশ্যাল মিডিয়ার যথাযথ ব্যবহার না করে, তাঁকে আমরা শাস্তি দিই। অভিযুক্ত কর্মীকে আমরা বরখাস্ত করেছি এবং বিচারের জন্য তুলে দিয়েছি কর্তৃপক্ষের হাতে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকার তাকে নিজের দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মী ঠিক কী মন্তব্য করেছিলেন তা ট্রান্সগার্ড জানায়নি। তার নাম, সে কোন দেশের মানুষ এবং কোম্পানিতে কী পদে চাকরি করত তাও গোপন রাখা হয়েছে। আমিরশাহি সরকার থেকে কিছু জানানো হয়নি। সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, ট্রান্সগার্ড থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে আমাদের কিছু জানানোর নেই।
নিউ জিল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলির অন্যতম। সেখানে ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে নানা জাতি ও ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। সেখানে বন্দুকবাজের হানা হতে পারে, ভাবতে পারেননি কেউ। মসজিদে গুলিবর্ষণের পরে বিশ্ব জিড়ে নিন্দা ও শোক জানানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীও আক্রমণের নিন্দা করেছিল। নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছিল।