“দলে গোষ্ঠীর রাজনীতি বরদাস্ত করব না। ভোটের মুখে যারা দলে বিভাজন তৈরি করবে, তারা তৃণমূলের নয়— বিজেপির কাজ করছে।”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 9 December 2025 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকমাস পরেই ছাব্বিশের ভোট যুদ্ধ (Assembly Election)। অথচ কোচবিহারের মাটিতে (Cooch Behar) প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ (Rabindranath Ghosh) এবং বর্তমান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর (Udayan Gauha) বিবাদ এখনও টাটকা।
সূত্রের খবর, তারই জেরে সোমবার রাতে কোচবিহার সার্কিট হাউসের জরুরি বৈঠকে উদয়ন এবং রবীন্দ্রনাথকে মুখোমুখি বসিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে কড়া বার্তা শুনিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
যদিও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে উদয়ন বা রবীন্দ্রনাথ কেউই সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে সূত্রের খবর, বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু'জনকেই স্পষ্টাস্পষ্টি জানিয়ে দিয়েছেন, “দলে গোষ্ঠীর রাজনীতি বরদাস্ত করব না। ভোটের মুখে যারা দলে বিভাজন তৈরি করবে, তারা তৃণমূলের নয়— বিজেপির কাজ করছে।”
দলীয় সূত্রের খবর, নেত্রীর এমন মন্তব্যের পর ঘর নাকি থমথমে হয়ে যায়। উদয়ন বা রবীন্দ্রনাথ কেউই পরস্পরের বিরুদ্ধে নেত্রীর সামনে আর কোনও মন্তব্য করেননি। বরং মাথা নেড়ে নেত্রীর নির্দেশ মেনে চলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্কে বরাবরই টানাপোড়েন তৃণমূলের। লোকসভায় কোচবিহারের পাঁচটিতে অল্প ব্যবধানে এগোলেও বিজেপির দাপট এখনও চোখে পড়ার মতো। তাকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠ দখল করতে গেলে দরকার ঐক্যবদ্ধ সংগঠন। আর ঠিক সেই সময়েই দলের ভিতরে ‘ক্ষমতার ঠেলাঠেলি’, ‘কে বড়— কে ছোট’ নিয়ে মন্ত্রীরাই যদি তিক্ততায় জড়ান, তা যে শাসকদলের কাছে আত্মঘাতী— সেটাই নাকি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মমতা।
বৈঠকে আরও বার্তা—“প্রবীণ নেতৃত্বকে বাদ দেওয়া চলবে না। আর নবীনরা ভাববেন না, বয়স হলেই সব পদ দখলে রাখার অধিকার থাকে! কাজ করার যোগ্যতা দেখান— তবেই আসবে গুরুত্ব।”
মঙ্গলবার দুপুরে কোচবিহারে সভা থেকে এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী আরও কিছু বলেন কিনা, তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।