.webp)
শেষ আপডেট: 19 January 2024 19:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর আগের কথা। এসএসকেএমের ডাক্তাররা তাঁকে পই পই করে বলেছিলেন, হাঁটাহাটি একটু কম করুন। এমনিতে ডাক্তারদের এহেন শাসন কোনওকালেই বিশেষ শোনেননি তিনি। তবে এবার পরিবারের চাপে কিছুটা মেনে চলতে হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর পায়ের ব্যথা এখন নেই। তাঁর পরিবার সূত্রে খবর, সোমবার ২২ জানুয়ারি কলকাতায় যে সর্বধর্ম মিছিলের ডাক দিয়েছেন, সে ব্যাপারে যারপরনাই উৎসাহী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেক দিন পর সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে অনেকটা পথ হাঁটা হবে। কালীঘাট থেকে পার্ক সার্কাস।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিকেল ঠিক তিনটের সময়ে তিনি কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন। একাই যাবেন। তারপর সেখান থেকে তিনি বেরিয়ে আসার পর হাজরা মোড় থেকে শুরু হবে মিছিল। সেই মিছিল বালিগঞ্জ ফাঁড়িতে পৌঁছনোর পর একটা স্কুটারে চেপে কিছুক্ষণের জন্য বেরিয়ে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী।
কোথায় যাবেন?
জানা গিয়েছে, গোটা মিছিল না নিয়ে গিয়ে কাছে একটা মাজারে একাই যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরে এসে ফের মিছিলে হাঁটতে শুরু করবেন।
অতীতে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে দেখা যেত, সিপিএমের বাহিনী যখন রাস্তা আটকে রাখত, তখন গ্রামের রাস্তা ধরে এর তার মোটরবাইকে চেপে ঢুকে যেতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্র রাজনীতির সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই।
সোমবার শেষমেশ তিনি স্কুটারে বা মোটরসাইকেলে উঠবেন কিনা তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। কারণ, সোমবার পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টিও রয়েছে। তবে স্কুটারে চেপে কাছেই মাজারে যাওয়ার যে একটা ইচ্ছাপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, সে বিষয়টি ঠিক।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মিছিল পার্ক সার্কাস ময়দানে পৌঁছনোর আগেই হয়তো দেখা যাবে ৬০ হাজার মানুষের সমাগম সেখানে হয়ে গিয়েছে। শিখ সম্প্রদায়ের একাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা মিছিলে সামিল হবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সব ইমাম, মোয়াজ্জেমরা আসবেন। সেই সঙ্গে জৈন, খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষ সেদিনের মিছিলে হাঁটার কথা জানিয়েছেন।
পার্ক সার্কাসে পৌঁছনোর আগে পথে একটি গুরুদ্বারায় যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর লেডি ব্রাবোর্ন কলেজের কাছে একটি গীর্জা ও মসজিদে যাবেন।
কালীঘাট ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “দিদির এই হন হন করে মিছিলে হাঁটা বা স্কুটারে-মোটর সাইকেলে চেপে কোথাও যাওয়া—দলের কর্মীদের কাছে বরাবর ভিন্নতর বার্তা নিয়ে আসে। এর মানে হল উদ্যম। দিদিকে দেখে নিচুতলার কর্মীরা চনমনে হয়ে ওঠেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিলক্ষণ জানেন সে কথা।”