আহত বিজেপি সাংসদকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা বললেন চিকিৎসকদের সঙ্গেও। কথা বললেন আহত খগেন মুর্মুর সঙ্গেও। কিন্তু খগেন মুর্মুর আহত হওয়ার ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি জেলা পুলিশ। যা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

শেষ আপডেট: 7 October 2025 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো : আহত বিজেপি সাংসদকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা বললেন চিকিৎসকদের সঙ্গেও। কথা বললেন আহত খগেন মুর্মুর সঙ্গেও। কিন্তু খগেন মুর্মুর আহত হওয়ার ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি জেলা পুলিশ। যা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
ঘটনার সূত্রপাত একদিন আগে নাগরাকাটায়। সেখানে ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। বিক্ষোভ আক্রমণের রূপ নেয় যাতে গুরুতর আহত হন মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। এই মুহূর্তে চোখের নিচে গভীর ক্ষত নিয়ে শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খগেন মুর্মু। মঙ্গলবার মিরিকের দুধিয়া সেতু সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করে ফেরার পথে সরাসরি শিলিগুড়ির ওই বেসরকারি হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেখা করেন বিজেপি সাংসদের সঙ্গে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ওঁর ডায়াবেটিস অনেকটাই বেশি, ফলে একটু অপেক্ষা করতে হয়। ওঁর কানে চোট রয়েছে। আমি কথা বলেছি, বলেছি আপনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন।"
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী আহত খগেন মুর্মুকে দেখে গেলেও বিজেপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কেন এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হলো না ? গতকালই খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষের আহত হওয়ার পরপরই বিজেপির পক্ষ থেকে বেশ কিছু ছবি সামনে নিয়ে আসা হয়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সোশাল মিডিয়ায় সেইসব ছবি পোষ্ট করে দাবি করেন খগেন মুর্মু বা শঙ্কর ঘোষের উপর এই আক্রমণ পূর্ব পরিকল্পিত। শুভেন্দু অধিকারী একেবারে নাম দিয়ে অভিযোগ করেন তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পনা করেই এদের দিয়ে আক্রমণ করেছে। শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষও দাবি করেন তৃণমূল কংগ্রেসই এই আক্রমণ করিয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগ নেই। স্থানীয় মানুষ নিজেদের ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তৃণমূলের আরো অভিযোগ বিজেপি নেতাদের সব সময় পাশে পাওয়া যায় না, এখন এই দুর্যোগের সময় তাঁরা এলাকাতে যাওয়াতেই সাধারণ মানুষ রেগে যান। সেই থেকেই এই জনরোষ। যদিও তৃণমূলের এই জনরোষের তত্ব মানতে নারাজ বিজেপি।
এদিকে জনরোষ হোক বা যাই হোক, ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার তো দুর অস্ত, এই ঘটনায় একজনকেও আটক করতে পারেনি পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ করে বিজেপির দাবি, পুলিশের এই ভূমিকাই প্রমাণ করছে এই ঘটনায় তৃণমূলের যোগ কতটা স্পষ্ট। তৃণমূলের লোকজন জড়িত আছে বলেই পুলিশ এখনও তাদের ছোঁয়নি। বিজেপির আরও অভিযোগ বিতর্ক থেকে মুখ ঘোরানোর জন্যই মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে গিয়েছেন। না হলে ওই একই হাসপাতালে ভর্তি বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকেও তিনি দেখে যেতেন।