২০২৬ সালের ভোটে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই প্রার্থী ঘোষণা করলেন তৃণমূল সভাপতি সুব্রত বক্সী।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 15 October 2025 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হবেন বলে ইঙ্গিত দিলেন রাজ্য তৃণমূল সভাপতি সুব্রত বক্সী। তিনি দলের সমস্ত স্তরের কর্মীদের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মিটিয়ে ফেলে এখন থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই ঘোষণার পরই কর্মীদেরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জেতানোর ডাক দিয়েছেন। নির্বাচনী রণকৌশল স্পষ্ট করে তিনি বলেন, বিজেপিকে এতটাই কম আসনে (৩০-এর নিচে) সীমাবদ্ধ রাখতে হবে যাতে তারা বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ (LOP) পাওয়ার যোগ্য না হয়। বিধায়ক মদন মিত্রও এই ঘোষণাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং হেরে যান। মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার জন্য তাঁর বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া সাংবিধানিকভাবে জরুরি ছিল। সেই সময় ভবানীপুর কেন্দ্রে জেতা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করেন। এরপর সেই শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হন এবং ছয় মাসের মধ্যে ফের ভবানীপুরের বিধায়ক হন।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি তাঁর নিজের কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, "পুজোর পরেই একটা বিপর্যয় ঘটেছে, যার জন্য আমি সবাইকে 'শুভ বিজয়া'-ও বলতে পারিনি। ভবানীপুর আমার নিজের কেন্দ্র। এখানকার কর্মীরাই আমাদের আসল শক্তি, যদিও তারা হয়তো বড় নেতা নয়। যদি কেউ নিজেকে খুব বড় নেতা বা 'স্যার' মনে করে, তবে সেটাও দেখতে হবে।"
ভবানীপুর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "একটা পরিকল্পনা করে ভবানীপুরকে বাইরের লোক দিয়ে ভর্তি করে দেওয়া হচ্ছে। গরিবদের বস্তি ভেঙে সেখানে বড় বড় বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। এই বিষয়গুলোর উপর নজর রাখতে হবে।"
তৃণমূল নেতৃত্বের এই ঘোষণা থেকে স্পষ্ট, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে দলীয় প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দেওয়া হয়েছে।