মঞ্চ থেকে নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই নিশানা করে মমতা বলেন, "বাঙালিদের ওপর এত রাগ কেন? কী ক্ষতি করেছে বাঙালি আপনাদের? মনে রাখবেন, বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।"

মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শেষ আপডেট: 16 July 2025 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বাংলায় কথা বললেই ডিটেনশন ক্যাম্পে!’, এমন অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার ধর্মতলার সমাবেশ থেকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বললেন, “বাঙালিদের দিয়ে কাজ করাবে, আর বাংলায় কথা বললেই গ্রেফতার করবে? বাংলা কি ভারতের বাইরে?”
এরপরই মমতা বলেন, "ওরা যেখানে বাঙালিদের গ্রেফতার করছে, আমি সেখানে গিয়ে বাংলাতেই বেশি করে কথা বলব। ক্ষমতা থাকলে আমাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে রাখো।"
ভিনরাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থার প্রতিবাদে এদিন বৃষ্টির মধ্যেই রাজপথে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে, সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, দোলা সেন-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।
মঞ্চ থেকে নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (PM Modi) নিশানা করে মমতা বলেন, "বাঙালিদের ওপর এত রাগ কেন? কী ক্ষতি করেছে বাঙালি আপনাদের? মনে রাখবেন, বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।" হুঁশিয়ারির সুরে এও বলেন, "বাংলার লোককে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখে, বাঙালি বিজেপিকেও ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে।"
'নাক গলানোর মাস্টার' বলে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর শ্লেষ, "কে কী খাবে, সেটাও তোমরা ঠিক করবে? লজ্জা করে না, মুখে গণতন্ত্রের কথা বলো, আর মানুষের গণতন্ত্র কেড়ে নিতে চাও। ইন্দিরা গান্ধীর এমার্জেন্সি নিয়ে প্রশ্ন তোলো, আর এখন তোমরা যেটা করছো সেটা জরুরি অবস্থার চেয়ে কম কীসে?"
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, লুকিয়ে নোটিফিকেশন জারি করেছে কেন্দ্র। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলায় কথা বললে সন্দেহ হলেই গ্রেফতার করতে হবে, আত্মীয়র বাড়িতে গেলে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে চলে যাচ্ছে! ২২ লক্ষ মানুষের ওপর অত্যাচার চলছে। এই জিনিস আমরা বরদাস্ত করব না। এই প্রসঙ্গে বিজেপির ‘বাংলা-বিরোধী’ মানসিকতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা সকলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু বাঙালিদের অসম্মান বা নিপীড়ন হলে চুপ করে বসে থাকব না। দিল্লির শাসকেরা যেন না ভাবেন, গোটা দেশ তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। যাকে খুশি তাঁকে জেলায় পাঠিয়ে দেবেন, আর কেউ বাংলায় কথা বললেই তাকে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা বলে দাগিয়ে দেবেন , এটা মেনে নেওয়া যাবে না।"
অনুপ্রবেশ প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলার পাল্টা জবাবে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “বর্ডার কে দেখে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না? তাহলে দোষ আমাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে কেন?”
রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য ডিভিসিকেও এক হাত নিয়েছেন মমতা, "বিনা নোটিসে জল ছেড়ে দিচ্ছে ডিভিসি। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”