বিজেপিকে ‘ভীতু’ ও ‘কাপুরুষের দল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ভোট আসলে এনআইএ-সহ সব এজেন্সি পাঠায়। এরা ভোট চোর।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির লিফলেট
শেষ আপডেট: 9 March 2026 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মতলায় ধর্নামঞ্চ (Mamata Banerjee Dharna) থেকে এবার বিজেপি ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে ‘চরবৃত্তি’র অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে তাঁর ধর্নাস্থলে লিফলেট বিলি করার চেষ্টা করছে বিজেপি (BJP)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ধর্মতলা চত্বর। মঞ্চ থেকেই নেত্রী নির্দেশ দেন, “এদের হাতে-নাতে ধরতে হবে। অন্যায় করলে ফোঁস করতে হয়। শশী পাঁজাকে (Shashi Panja) দায়িত্ব দিলাম, এদের বিরুদ্ধে এফআইআর করুন।”
‘এজেন্সি’ দিয়ে নজরদারির অভিযোগ
এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে বিজেপি এখন এজেন্সি দিয়ে ধর্নাস্থলে লিফলেট বিলি করাচ্ছে। বিজেপিকে ‘ভীতু’ ও ‘কাপুরুষের দল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ভোট আসলে এনআইএ-সহ সব এজেন্সি পাঠায়। এরা ভোট চোর। এখানে ওদের ঢোকার অধিকার নেই।” উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে তিনি নির্দেশ দেন ধর্নাস্থলের প্রতিটি কোণে নজর রাখতে। মমতা যখন মঞ্চ থেকে এই হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তখনই ধর্নাস্থলের কাছে দু'জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে পাকড়াও করা হয়। তৃণমূল শিবিরের দাবি, ওই ব্যক্তিরাই এলাকায় লিফলেট বিলি করার চেষ্টা করছিলেন।
নেত্রীর নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূল শিবির। মমতা সাফ জানিয়েছেন, “সবাইকে আমি সতর্ক করছি। ধর্নার জায়গায় নজর রাখুন। এদের আমাদের ধরতেই হবে।” অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রী শশী পাঁজাকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পুলিশের হাতে একজনকে তুলে দেওয়ার সময় এলাকায় হইচই শুরু হয়ে যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন পণ্ড করতেই বিজেপি এই ধরনের ‘প্ল্যানটেড গেম’ খেলছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সঙ্গে বৈঠকে এদিন অপমানের মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্যের শাসকদলের প্রতিনিধিদের। অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে ৬০ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নালিশ জানাতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূলের অভিযোগ, নিরপেক্ষ থাকার বদলে কমিশন এখন বিজেপির শিখিয়ে দেওয়া পথেই হাঁটছে।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দাবি, তিনি যখন এদিন ভোটার তালিকার অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন তাঁর কথার মাঝেই ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার করে ওঠেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। প্রশ্ন করেন, কেন তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে? চন্দ্রিমার দাবি, তিনি একজন মহিলা হওয়া সত্ত্বেও কমিশনার তাঁকে অত্যন্ত রুক্ষ স্বরে “Don't shout” (চিৎকার করবেন না) বলে ধমক দেন। চন্দ্রিমা বলেন, “কীভাবে একজন মহিলার সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারেন উনি? সুপ্রিম কোর্টে গেছি বেশ করেছি। আমার রাজ্যের মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্যই গিয়েছি।” তাঁর প্রশ্ন, বিষয়টি যদি সুপ্রিম কোর্টেই থাকে, তবে তাঁদের আলোচনার জন্য ডাকা হল কেন?"
তৃণমূলের প্রতিনিধিদের মূল অভিযোগ ছিল তিনটি