“হঠাৎ করে আনন্দ বোসকে সরালেন কেন? হঠাৎ দিল্লি ডেকে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে রিজাইন করালেন? উত্তর তো আপনাকে দিতেই হবে।"
.jpeg.webp)
সিভি আনন্দ বোস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 8 March 2026 19:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্নামঞ্চের তৃতীয় দিনে মেজাজ সপ্তমে উঠল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee Dharna)। বিজেপিকে ‘বিচ্ছিড়ি অপপ্রচারকারী’ দল হিসেবে দেগে দিয়ে তিনি জানালেন, দেশের বিভাজন বা অনুপ্রবেশ নিয়ে কুৎসা বন্ধ করুক বিজেপি (BJP)। সেই সঙ্গে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের হঠাৎ পদত্যাগ নিয়ে কেন্দ্রকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুললেন তিনি।
রাজ্যপাল বদল নিয়ে তোপ
প্রাক্তন রাজ্যপালের বিদায় নিয়ে এদিন রীতিমতো বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, “হঠাৎ করে আনন্দ বোসকে সরালেন কেন? হঠাৎ দিল্লি ডেকে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে রিজাইন করালেন? উত্তর তো আপনাকে দিতেই হবে। ভাবছেন ইয়েস ম্যান নিয়ে আসবেন?” এমনকি ধনকড় বা আনন্দ বোসের পদত্যাগ নিয়ে সিআইডি তদন্তের চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি। কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “হামটি ডামটি স্যাট অন আ ওয়াল। পর্দা কে পিছে ক্যায়া হ্যায়? ছুপা রুস্তম হ্যায়!”
‘মুসলিমদের আমি আনিনি, প্রশ্ন করুন নেহরুকে’
বিজেপির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের প্রচার নিয়ে মমতা বলেন, “আমি নাকি মুসলিমদের বাংলায় ঢুকিয়ে দিয়েছি। আমি থোড়াই দেশটাকে ভাগ করেছি! আমি তখন জন্মেছিলাম? তোমরা তখন কোথায় ছিলে?” তাঁর স্পষ্ট কথা, যদি প্রশ্ন করতেই হয়, তবে ইতিহাস হাতড়ান, গান্ধীজি বা নেহরুকে প্রশ্ন করুন। বিজেপির মাথায় ‘সাইক্রিয়াটিক প্রবলেম’ আছে বলে টিপ্পনী কেটে তিনি মনে করিয়ে দেন, এই বিজেপিই গান্ধীজির নাম মুছে দিতে চাইছে (NREGA)।
তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মোদী সরকারকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমেরিকা বা রাশিয়া থেকে কত কড়ি দিয়ে তেল আনবেন, তা সাধারণ মানুষের দেখার কথা নয়। কিন্তু সরকার সস্তায় এনে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। ভোটের আগে রাষ্ট্রপতি ইস্যু নিয়ে যে চর্চা শুরু হয়েছে, সেই বিষয়ে মমতা বলেন, এই ডামাডোল তৈরি করা আসলে ‘প্ল্যানটেড গেম’। তাঁর কথায়, “ভাবছেন বড় হনু হয়ে গেছেন? এই ভোটে জিতে যদি মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তবে মিস্টার ভ্যানিশ কুমারকে (সিইসি) বলুন পদত্যাগ করতে।”
‘অ্যান্টি-মহিলা’ বিজেপি
ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা নিয়ে ফের সরব হয়ে মমতা বলেন, বিজেপি আসলে মহিলাদের বিরোধী। বেছে বেছে মা-বোনেদের ভোট কাটা হচ্ছে। তাঁর দাবি, জেনুইন ভোটারদের ভোট দিতে দিতেই হবে। নির্বাচন কমিশনের নামে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।