গত আট বছর ধরে কলকাতায় বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের (BGBS) আয়োজন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজনেস সামিটে মুখ্যমন্ত্রী।
শেষ আপডেট: 19 May 2025 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত আট বছর ধরে কলকাতায় বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের (BGBS) আয়োজন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ধাঁচে সোমবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে বিজনেস সামিটের (Business Summit in Siliguri) আয়োজন করেছিল রাজ্য। ২১৬ মিনিট ধরে চলা সেই মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee ) জানালেন, কলকাতা, দিঘার ধাঁচে উত্তরবঙ্গেও একটা কনভেনশন সেন্টার তৈরি করা হবে এবং সেখানে ফি বারই হবে বাণিজ্য সম্মেলন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "উত্তরকন্যায়- একটা কনভেশন সেন্টার করে দিতে পারলে প্রতি বছর একটা করে মিটিং করতে পারি।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দিঘার কনভেনশন সেন্টারটি ব্যবসা-বাণিজ্য, কনফারেন্স এবং পর্যটকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে, তাই উত্তরবঙ্গেও এমন একটি সুবিধা থাকলে পর্যটন এবং অর্থনীতি উভয়ই উপকৃত হবে।
কীভাবে উত্তরবঙ্গের শিল্পায়নে বিকাশ ঘটানো যায় তা নিয়ে এদিনের বৈঠকে একাধিক প্রস্তাব রাখেন ৮টি জেলা থেকে আসা একাধিক শিল্পপতি এবং উদ্যোগপতিরা। প্রশাসন সূত্রে খবর, সামিটে ইথানল কারখানা, মাখনা, ভুট্টা প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন, চা শিল্পের আরও সম্প্রসারণ, শিল্পতালুক সহ কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।
২০১১ থেকে ২০২৫, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের মতো উত্তরেও যে একাধিক শিল্প তৈরি হয়েছে তার উদাহরণ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দাবি, "২০১১ সালে সমগ্র উত্তরবঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল মাত্র ৮৪০ মেগা ওয়াট, সেখানে এখন ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট চাহিদা। শিল্পায়ন যে বেড়েছে এটাই তরা প্রমাণ।"
রাজ্যের ৬টি ইকোনমিক করিডরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হচ্ছে। এই ইকোনমিক করিডর গড়ে উঠলে দক্ষিণবঙ্গের মতো উত্তরবঙ্গের আর্থ সামাজিক ব্যবস্থারও আমূল বদল ঘটবে।
এদিনের বাণিজ্য সম্মেলন থেকে একাংশ উদ্যোগপতি অভিযোগ করেন, ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে অনলাইনে শিল্প নিগমে ডেভলপমেন্ট ফি দেওয়ার পরও স্থানীয় প্রশাসন আলাদা করে চার্জ নিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দেন, এভাবে স্থানীয় প্রশাসন ডেভলপমেন্ট ফি নিতে পারবে না।
মিটিংয়ে উপস্থিত মুখ্যসচিবকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়ো। আমি মুখ্যসচিবকে বলছি, এ ব্যাপারে গাইড লাইন তৈরি করে দিতে।"
একাংশ শিল্পপতির অভিযোগ, "কোচবিহারে ট্রেড লাইসেন্স ফি বেশি নেওয়া হচ্ছে।" যা শুনে রীতিমতো রেগে যান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, "ফাইল চেয়ে পাঠাও। আমি তো ট্যাক্স বাড়ানোর বিরুদ্ধে। এইগুলো ভুল হচ্ছে। এটা হতে পারে না। চিফ সেক্রেটারি নিজে থেকে বিষয়টি দেখে নেবেন।"
টি বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও এদিনের বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন একাংশ উদ্যোগপতি। তাঁদের অভিযোগ, গতবারের মতো এবারও চা বাগানের পাতা তোলার সময় ওরা সমস্যা করতে পারে। এরকম চলতে থাকলে চা বাগান চালিয়ে যাওয়া মুশকিল। বিষয়টি শ্রমমন্ত্রীকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়ে এ ব্যাপারে কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "ভোটের সময় এসে বলবে, চা বাগান খুলে দিয়েছি, আর ভোট মিটলেই বলবে বন্ধ করে দাও। ওদের এই চালাকি শুনব না। এরকম এবারও করলে টি বোর্ড ঘেরাও করুন।"
এদিন বাণিজ্য সম্মেলন শেষে স্বসহায়ক গোষ্ঠীর সৃষ্টিশ্রী স্টল থেকে দু'টি ব্যাগও কেনেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।