জঙ্গল রক্ষা থেকে শুরু করে পর্যটকদের জঙ্গলে সাফারি-সহ বিভিন্ন জঙ্গলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই কুনকি হাতিগুলিকে ব্যবহার করা হয়।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 19 May 2025 17:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের (North Bengal) জঙ্গল সফরে গেলে হাতি সাফারি (Elephant Safari) পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের বিষয়। কিন্তু ইদানিং হাতি সাফারির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কারণ, কমছে কুনকি হাতির সংখ্যাও। বিষয়টি অজানা নয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও (Mamata Banerjee, Chief Minister)।
সোমবার শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে বিজনেস সামিটের (Business Summit in Siliguri) আয়োজন করে রাজ্য। সেখানে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের প্রসারের প্রসঙ্গ ক্রমে কুনকি হাতি এবং হাতি সাফারির বিষয়টি ওঠে। এরপরই এ ব্যাপারে বন দফতর এবং পর্যটন দফতরের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কুনকি হাতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এটা দেখতে হবে। একই সঙ্গে টুরিস্ট ডিপার্টমেন্ট, ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে বলব, হাতি সাফারির সুযোগ থাকলে আরও বাড়াতে হবে।"
আলিপুরদুয়ারে আরও বেশি হোম স্টে তৈরি করার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "আলিপুরদুয়ারে থাকার জায়গার সমস্যা আছে। যত বেশি থাকার জায়গা করতে পারবেন তত বেশি পর্যটক আসবে।"
বন দফতর সূত্রের খবর, গরুমারায় ২৮টি এবং জলদাপাড়ায় প্রায় ৮০টি কুনকি হাতি রয়েছে। জঙ্গল রক্ষা থেকে শুরু করে পর্যটকদের জঙ্গলে সাফারি-সহ বিভিন্ন জঙ্গলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই কুনকি হাতিগুলিকে ব্যবহার করা হয়।
তবে বন দফতর সূত্রের খবর, ইদানিং কুনকি হাতিরাও মাঝে মধ্যে হিংস্র হয়ে উঠছে। গত কয়েক বছরে কুনকি হাতির আচমকা হিংস্র হয়ে ওঠার কারণে জলদাপাড়ায় দশজনেরও বেশি মাহুতের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের রাজাভাতখাওয়া স্টেশনের কাছে আচমকা রেলের ঠিকাদারি সংস্থার এক কর্মীকেও পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলে কুনকি হাতি জোনাকি।
বন দফতর সূত্রের দাবি, এরপর থেকেই কুনকি হাতির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। কী কারণে আচমকা হিংস্র আচরণ করে উঠছে একাংশ কুনকি হাতি, তা বুঝতে এক্সপার্ট কমিটিও গঠন করেছে বন দফতর। সেই কমিটি খতিয়ে দেখছে মূলত দুটি বিষয়। এক কুনকি হাতির প্রতি মাহুতের আচরণ এবং কুনকি হাতিকে দিয়ে অতিরিক্ত পর্যটক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিনা।
প্রসঙ্গত, হাতি সাফারি কমে যাওয়ার কারণে পর্যটকের সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলেই খবর। তবে বন কর্তাদের আশ্বাস, শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।