একটি মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই শুনানিতেই প্রশ্ন ওঠে, কেন নথি-পরিচয় এবং নাগরিকত্ব যাচাই না করে কাউকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 29 August 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলায় শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বলা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট ভাষা বলার জন্য কাউকে বিদেশি বলা যায় না। এই ইস্যুতে দেশের শীর্ষ আদালতের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়, সীমান্ত রাজ্য হিসেবে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকার স্বীকৃতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক ওয়েলফেয়ার বোর্ডের করা একটি মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই শুনানিতেই প্রশ্ন ওঠে, কেন নথি-পরিচয় এবং নাগরিকত্ব যাচাই না করে কাউকে বাংলাদেশের (Bangladesh) দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে? কেন বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি বলা হচ্ছে কাউকে? এই সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) শুনানিতে রাজি হচ্ছে না বলেও শীর্ষ আদালতে অভিযোগ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টকে দ্রুত শুনানির নির্দেশ দিয়েছে।
গোটা বিষয়ের নিরিখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ''সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের আবেদনটি শুনতে নির্দেশ দিয়েছেন। আটক হওয়া বিপন্ন পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য একটা বড় ভরসার জায়গা তৈরি হল।'' পাশাপাশি তিনি এও মনে করান, বিচারবিভাগের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা আছে। বাংলার প্রতিটি শ্রমিক সম্মান, মর্যাদা ও সাংবিধানিক ন্যায় বিচার পাবেন, এই আশা করেন তাঁরা।
মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট আজ একটি জনস্বার্থ মামলার সূত্রে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে যুগান্তকারী নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সীমান্ত রাজ্য হিসেবে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকা স্বীকার করে প্রজন্মের পর প্রজন্মে বাংলা কীভাবে আশ্রয়, ভরসা ও সংস্কৃতির আশ্রয়স্থল হয়েছে, তার স্বীকৃতি…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) August 29, 2025
আসলে অভিযোগ উঠেছে, সোনালি বিবি নামের বর্ধমানের এক মহিলাকে বাংলা ভাষা বলার কারণে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে। দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে 'দেশহীন'। বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে উঠলে কেন্দ্রের তরফে আদালতকে অনুরোধ করা হয়, এই সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন তাই হাইকোর্ট যেন এখন এই মামলা না শোনে। সেই আবেদন মেনে নেয় হাইকোর্ট। এই প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ভীষণভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।