তাঁর কথায়, বাংলা ও ভারতের প্রতিটি কন্যাসন্তান সমাজের ভবিষ্যৎ রূপকার। শুধু একটি দিনে নয়, সারা বছর জুড়েই বাংলায় মেয়েদের উদযাপন ও ক্ষমতায়নের কাজ চলে বলে স্পষ্ট করে জানালেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 24 January 2026 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে (National Girl Child Day) বাংলার মেয়েদের উদ্দেশে ভালবাসা, আশীর্বাদ এবং প্রতিশ্রুতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়, বাংলা ও ভারতের প্রতিটি কন্যাসন্তান সমাজের ভবিষ্যৎ রূপকার। শুধু একটি দিনে নয়, সারা বছর জুড়েই বাংলায় মেয়েদের উদযাপন ও ক্ষমতায়নের কাজ চলে বলে স্পষ্ট করে জানালেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্য সরকারের (State Govt) একের পর এক প্রকল্পের কথা, যা একটি মেয়ের জন্ম থেকে শুরু করে শিক্ষা, আত্মনির্ভরতা এবং সামাজিক সুরক্ষার প্রতিটি ধাপে পাশে দাঁড়ায়। তাঁর কথায়, এই যাত্রার সূচনা হয় কন্যাশ্রী প্রকল্প দিয়ে - যা আজ আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত ও পুরস্কৃত। মেয়েদের শিক্ষা বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ রোধ করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গত কয়েক বছরে প্রায় এক কোটি মেয়েকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা স্কুল ও কলেজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।
তিনি এও দাবি করেন, শিক্ষার পথে এগোতে আরও সহায়ক হয়েছে সবুজ সাথী প্রকল্প। স্কুলে যাতায়াত সহজ করতে প্রত্যেক ছাত্রীকে দেওয়া হয়েছে সাইকেল। পাশাপাশি শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রী, তরুণের স্বপ্নের মতো একাধিক প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিনামূল্যের পাঠ্যবই, স্কুলের পোশাক, জুতো, মিড-ডে মিল - সব মিলিয়ে মেয়েদের পড়াশোনার পথে আর্থিক বাধা দূর করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী এও মনে করিয়ে দেন, বিয়ের সময়েও মেয়েদের পাশে রয়েছে রাজ্য। রূপশ্রী প্রকল্পে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় নববধূকে। আর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে যুক্ত হয়ে রাজ্যের ২.২১ কোটি মহিলা নিয়মিত মাসিক আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাঁদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বড় ভিত্তি বলে দাবি সরকারের।
On National Girl Child Day, I extend my heartiest love and blessings to every daughter of Bengal and India. They are the future architects of our society.
In Bengal, we don't celebrate the girl child merely on one day; we celebrate her and empower her every single day of the…— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) January 24, 2026
একই সঙ্গে, পরিবারের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাচ্ছে গোটা পরিবার।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলার মেয়েরা বিজ্ঞান গবেষণাগার থেকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চ - সব ক্ষেত্রেই নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে। তাঁদের জন্য এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে তারা ভয়হীনভাবে শ্বাস নিতে পারে, নির্ভয়ে শিখতে পারে এবং সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে পারে।