উত্তরবঙ্গের এক সভা থেকেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন হয়তো এরাজ্যের সংখ্যালঘু ও তফশিলিরা পিছিয়ে রয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধর্নামঞ্চ থেকে তার উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচারের জন্য বিজেপি ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ তোলেন।

শেষ আপডেট: 7 March 2026 21:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসে এখানকার জনজাতিদের উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Draupadi Murmu)। উত্তরবঙ্গের এক সভা থেকেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন হয়তো এরাজ্যের সংখ্যালঘু ও তফশিলিরা পিছিয়ে রয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধর্নামঞ্চ থেকে তার উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচারের জন্য বিজেপি ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসন তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu)। শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি এরাজ্যের জনজাতিদের উন্নয়ন ও বিকাশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এরপরই তৃণমূলের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল (AITC official X handle) থেকে পোস্ট করে জনজাতিদের জন্য কী কী প্রকল্প চালু রয়েছে তার একটি খতিয়ান দেওয়া হয়। এরপরই মেট্রো চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী (West Bengal CM) এনিয়ে কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি রাষ্ট্রপতিকে যথেষ্ট সম্মান করেন, কিন্তু বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচারের জন্য তাঁকে ব্যবহার করা হচ্ছে। মমতার দাবি, রাজ্যে কেউ এলে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়, তবে বারবার কেউ আসলে প্রতিবার উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়, কারণ সরকারের আরও কাজ থাকে।
দ্রৌপদী মুর্মুর অনুযোগের উত্তর দিলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘আজ বিজেপি সংবিধানটা কোথায় নিয়ে গিয়েছে। আমরা বলতে নিজের লজ্জা লাগছে। মাননীয় রাষ্ট্রপতি আমরা তাঁকে সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠানো হয়েছে। বিজেপির এজেন্ডা পাঠানো হয়েছে। আমি দুঃখিত ম্যাডাম। আপনার প্রতি আমার ষথেষ্ট সম্মান আছে। কিন্তু আপনি বিজেপির ট্র্যাপে (ফাঁদে) পড়ে গিয়েছেন।’’
রাষ্ট্রপতি বঙ্গ সফরে (President Draupadi Murmu Bengal Visit) এসেছেন, অথচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেননি, এনিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu)। মমতার দাবি, রাজ্যে কেউ এলে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়, তবে বারবার কেউ আসলে প্রতিবার উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়, কারণ সরকারের আরও কাজ থাকে। যোগ করেন, তিনি তখন সাধারণ মানুষের দাবিতে এসআইআর (SIR) ইস্যুতে ধর্নায় ছিলেন, তাই যাওয়া সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, অন্য রাজ্যে আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় নীরব থাকা হলেও কেন বারবার বাংলাকেই নিশানা করা হয়।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই এ রাজ্যের আদিবাসী ও সাঁওতাল সমাজের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, “আমার দেখে মনে হচ্ছে না যে আদিবাসী সমাজের মানুষ সরকারি কোনও সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো পান। আদৌ তাঁরা সব সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।”
অনুষ্ঠানের অব্যবস্থা নিয়ে উষ্মা
এদিন বাগডোগরা এয়ারপোর্ট অথরিটির মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিড় ছিল অত্যন্ত কম। অধিকাংশ চেয়ার খালি পড়ে থাকতে দেখে দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “এটা যে একটা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স, দেখে তো মনেই হচ্ছে না! প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই, কিন্তু এখানে তো ৫ লক্ষ লোক অনায়াসেই ধরে যেত।” এরপরই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ছোট বোন’ সম্বোধন করে তিনি প্রশ্ন তোলেন তাঁর ‘রাগ’ নিয়ে। যদিও রাষ্ট্রপতি যোগ করেন, তাঁর কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতর। তাঁর সঙ্গে থাকা দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা সরাসরি রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারির দাবি তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের কোনও সঠিক ব্যবস্থাপনাই নেই। অন্যদিকে, তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধিকে মঞ্চে দেখা যায়নি। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহ-সভাধিপতি রোমা রেশমি এক্কা পাল্টা দাবি করেন, “সঠিক যোগাযোগের অভাব ছিল। আমাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। মঞ্চ তো কেবল বিজেপির সাংসদ-বিধায়কেরাই আলো করে রইলেন।”