“আমিও বাংলার মেয়ে, অথচ আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। জানি না মমতাদির আমার উপর কেন এত রাগ!”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দ্রৌপদী মুর্মু
শেষ আপডেট: 7 March 2026 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসন তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu)। শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে, অথচ আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। জানি না মমতাদির আমার উপর কেন এত রাগ!”
অনুষ্ঠানের অব্যবস্থা নিয়ে উষ্মা
এদিন বাগডোগরা এয়ারপোর্ট অথরিটির মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিড় ছিল অত্যন্ত কম। অধিকাংশ চেয়ার খালি পড়ে থাকতে দেখে দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “এটা যে একটা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স, দেখে তো মনেই হচ্ছে না! প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই, কিন্তু এখানে তো ৫ লক্ষ লোক অনায়াসেই ধরে যেত।” এরপরই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ছোট বোন’ সম্বোধন করে তিনি প্রশ্ন তোলেন তাঁর ‘রাগ’ নিয়ে।
যদিও রাষ্ট্রপতি যোগ করেন, তাঁর কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই।
আদিবাসীদের উন্নয়ন নিয়ে সংশয়
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই এ রাজ্যের আদিবাসী ও সাঁওতাল সমাজের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, “আমার দেখে মনে হচ্ছে না যে আদিবাসী সমাজের মানুষ সরকারি কোনও সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো পান। আদৌ তাঁরা সব সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।”
ফাঁসিদেওয়ায় ‘সারপ্রাইজ’ ভিজিট
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে আগে যেখানে অনুষ্ঠানের কথা ছিল, সেখানে অনুমতি দেয়নি রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি এদিন সোজাসুজি সেই ফাঁসিদেওয়াতেই পৌঁছে যান। সেখানকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি ফের রাজ্যকে নিশানা করে বলেন, “এখানে কয়েক লক্ষ মানুষ শামিল হতে পারতেন। কেন অনুমতি দেওয়া হল না জানি না।”
রাজনৈতিক তরজা ও অনুপস্থিত তৃণমূল
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতর। তাঁর সঙ্গে থাকা দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা সরাসরি রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারির দাবি তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের কোনও সঠিক ব্যবস্থাপনাই নেই। অন্যদিকে, তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধিকে মঞ্চে দেখা যায়নি। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহ-সভাধিপতি রোমা রেশমি এক্কা পাল্টা দাবি করেন, “সঠিক যোগাযোগের অভাব ছিল। আমাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। মঞ্চ তো কেবল বিজেপির সাংসদ-বিধায়কেরাই আলো করে রইলেন।”