বাংলায় পিছিয়ে রয়েছে জনজাতিরা, তাদের জন্য কোনও উন্নয়ন হয়নি, শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে এই মন্তব্য করলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Draupadi Murmu)। তাঁর এই 'ভুল ধারণা' ভেঙে জবাব দিল রাজ্য।

রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের জবাব তৃণমূলের
শেষ আপডেট: 7 March 2026 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় পিছিয়ে রয়েছে জনজাতিরা, তাদের জন্য কোনও উন্নয়ন হয়নি, শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে এই মন্তব্য করলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Draupadi Murmu)। তাঁর এই 'ভুল ধারণা' ভেঙে জবাব দিল রাজ্য। জনজাতিদের শিক্ষা, আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য কী কী প্রকল্প হয়েছে,অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে সেই তালিকা দিল তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূল (AITC) রাষ্ট্রপতির মন্তব্যকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়া, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে জনজাতিদের নিয়মিত সাহায্য দেওয়া হচ্ছে, তাও স্পষ্ট করেছেন। যেমন-
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পে তফসিলি উপজাতি (ST) মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বছরে তাঁরা ২০ হাজার ৪০০ টাকা পান।
It is extremely unfortunate that the Hon’ble President appears to be under the misinformed impression that there has been no development for Adivasi communities in Bengal. Madam, we would like to respectfully place the facts on record:
👉 Under Lakshmir Bhandar, the monthly… pic.twitter.com/Y8uuCAyeQt— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) March 7, 2026
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ‘শিক্ষাশ্রী’ বৃত্তির (Sikhshashree’scholarship) মাধ্যমে ১ লক্ষ ৯ হাজার ২৭২ জন সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে পড়াশোনার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
‘জয় জোহার’ প্রকল্পে (Jai Johar scheme) বর্তমানে ২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩১৫ জন উপভোক্তা মাসে ১ হাজার টাকা করে পেনশন পাচ্ছেন, যা জনজাতিদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করছে।
রাজ্য সরকার ‘সিধু-কানু মেমোরিয়াল আবাসিক স্কুল’ (Sidhu Kanu Memorial Abasik Schools) গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে সাঁওতালি ভাষায় পড়াশোনার সুযোগ থাকবে। এতে জনজাতি শিশুদের নিজের মাতৃভাষায় শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
জঙ্গলমহল অঞ্চলের ৩৫ হাজার ৮৪৫ জন তফসিলি উপজাতি মানুষ ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল কেন্দু লিভস কালেক্টরস সোশ্যাল সিকিউরিটি স্কিম’-এর আওতায় সামাজিক সুরক্ষা পাচ্ছেন।
মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে শক্তিশালী করতে LAMPS-এর (Large Area Multipurpose Societies) অধীনে প্রতিটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৩০ হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ৭ হাজার ৯৩২টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মধ্যে মোট ২৩.৮০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আদিবাসী এলাকাগুলির উন্নয়নের জন্য রাস্তা, কালভার্ট ও সেতু তৈরি, পানীয় জলের ব্যবস্থা, সৌরচালিত টিউবওয়েল বসানো, হস্টেল সংস্কার, কমিউনিটি হল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নির্মাণ এবং সৌর স্ট্রিট লাইট বসানোর মতো কাজ করা হচ্ছে।
এই সব প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ৭৮.৯৪ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তাদের দাবি, এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে রাজ্যের জনজাতিদের উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসন তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu)। শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে, অথচ আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। জানি না মমতাদির আমার উপর কেন এত রাগ!”
অনুষ্ঠানের অব্যবস্থা নিয়ে উষ্মা
এদিন বাগডোগরা এয়ারপোর্ট অথরিটির মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিড় ছিল অত্যন্ত কম। অধিকাংশ চেয়ার খালি পড়ে থাকতে দেখে দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “এটা যে একটা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স, দেখে তো মনেই হচ্ছে না! প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই, কিন্তু এখানে তো ৫ লক্ষ লোক অনায়াসেই ধরে যেত।” এরপরই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ছোট বোন’ সম্বোধন করে তিনি প্রশ্ন তোলেন তাঁর ‘রাগ’ নিয়ে। যদিও রাষ্ট্রপতি যোগ করেন, তাঁর কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতর। তাঁর সঙ্গে থাকা দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা সরাসরি রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারির দাবি তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের কোনও সঠিক ব্যবস্থাপনাই নেই। অন্যদিকে, তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধিকে মঞ্চে দেখা যায়নি। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহ-সভাধিপতি রোমা রেশমি এক্কা পাল্টা দাবি করেন, “সঠিক যোগাযোগের অভাব ছিল। আমাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। মঞ্চ তো কেবল বিজেপির সাংসদ-বিধায়কেরাই আলো করে রইলেন।”