গত দু’দশকে বাংলার রাজনীতিতে যে ধারা তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাতে একদিনের ধর্না তাঁর অভিধানে কার্যত নেই। তাই আগে থেকেই এ ব্যাপারে সন্দেহ ছিল। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধের পর থেকে দলের তরফ থেকে নেতাদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে ৬ থেকে ৭ দিনের জন্য ধর্নাস্থলে যাওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুতি রাখতে।

ধর্নায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 6 March 2026 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় প্রতিষ্ঠান বিরোধী ঝড় মজবুত করতে অমিত শাহ-নীতিন নবীনরা যখন পরিবর্তন যাত্রা (BJP Paribartan Yatra) বের করেছেন, ঠিক তারই মধ্যে শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধর্নায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee dharna)। মেট্রো চ্যানেলে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির প্রায় সব বিধায়ক জেলা পরিষদের নেতা লোকলস্কর নিয়ে সকাল থেকে রওনা হয়ে গেছেন সেখানে পৌঁছনোর উদ্দেশে। সব মিলিয়ে সাজো সাজো ব্যাপার।
কৌতূহল ছিল, দিদির এই ধর্না কি একদিনের? নাকি লাগাতার চলতে পারে?
গত দু’দশকে বাংলার রাজনীতিতে যে ধারা তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাতে একদিনের ধর্না তাঁর অভিধানে কার্যত নেই। তাই আগে থেকেই এ ব্যাপারে সন্দেহ ছিল। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধের পর থেকে দলের তরফ থেকে নেতাদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে ৬ থেকে ৭ দিনের জন্য ধর্নাস্থলে যাওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুতি রাখতে। দলের মুখপাত্র, মন্ত্রী, সুবক্তাদের বিশেষ করে সেই তথ্য দেওয়া হয়েছে। কারণ, ধর্না মানে তো শুধু বসে থাকা নয়। লাগাতার সেই মঞ্চ থেকে বক্তৃতা চলবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিনের শেষে বা মধ্যে কোনও এক সময় তাঁর প্রতিবাদের বিষয়আশয় স্পষ্ট করে জানাবেন।
বাংলায় চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রতিবাদ সভা। তাঁর অভিযোগ, কমিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বেছে বেছে ভোটারদের নাম কেটে দিয়েছে। বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তা ছাড়া লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাঁরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কিনা ঠিক নেই। এভাবে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তালিকার বাইরে রেখে ভোট করা অসাংবিধানিক বলে তাঁর দাবি।
সুপ্রিম কোর্টে এই মর্মে একটি মামলা চলছে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য পুরোপুরি রাজনৈতিক। তাঁর সরকারের মেয়াদ ১৫ বছর ছুঁতে চলেছে। এমনিতেই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হওয়ার কথা। তার উপর চাকরি দুর্নীতি, টেট কেলেঙ্কারি, সিন্ডিকেট রাজ, আরজি কর কাণ্ড মায় প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ঝড় চলছে। সেই সঙ্গে এবার কড়া পাকের মেরুকরণের রাজনীতিতে নেমেছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন এই ভোটে গোটা বিতর্কে এসআইআর নিয়েই আবর্তিত হোক। যাতে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার বিষয়আশয় ঢেকে যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কৌশল বিজেপি যে আন্দাজ করতে পারছে না তা নয়। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, উনি ধর্নায় বসলেও কোনও ফারাক পড়বে না। এই সরকারের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তৃণমূল আর ফিরবে না। মানুষও আর ছেলে ভোলানোর ফাঁদে পড়বে না।