বিষয়টি নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে নবান্নের অন্দরে। তড়িঘড়ি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম (Bidhannagar Cyber Crime) থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 26 February 2026 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমজনতার অভিযোগ শোনার জন্য যে ডিজিটাল মঞ্চকে হাতিয়ার করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Page Hack), সেখানেই পড়ল হ্যাকারদের থাবা। ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ (Sorasori Mukhyomontri) কর্মসূচির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম (Instragram) প্রোফাইলটি হ্যাক করে বিতর্কিত মেসেজ ও স্টোরি পোস্ট করার অভিযোগ উঠল। বিষয়টি নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে নবান্নের অন্দরে। তড়িঘড়ি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম (Bidhannagar Cyber Crime) থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।
মাঝরাতের হানা ও রহস্যময় মেসেজ
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, গভীর রাতে যখন শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই সক্রিয় হয়ে ওঠে হ্যাকাররা। প্রোফাইলটি কবজায় নিয়ে তারা মোট ৪৭টি অনুমোদনহীন ডাইরেক্ট মেসেজ (DM) পাঠিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রোফাইলের স্টোরিতেও দুটি পোস্ট করা হয়। অভিযোগকারী সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার হামলা চলে রাত ২টো ৬ মিনিট থেকে ২টো ১৯ মিনিটের মধ্যে। এর পর দ্বিতীয় দফায় হ্যাকাররা সক্রিয় হয় সকাল ৯টা ১১ মিনিটে। কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই একের পর এক মেসেজ পাঠানো হতে থাকে।
খোদ পুলিশকেই পাঠানো হল বার্তা!
এই হ্যাকিংয়ের ঘটনায় সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল হ্যাকারদের স্পর্ধা। ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’র প্রোফাইল ব্যবহার করে তারা খোদ ‘কলকাতা পুলিশ’, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ’ এবং ‘এগিয়ে বাংলা’-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পেজগুলিতে মেসেজ পাঠিয়েছে। কেন এই নির্দিষ্ট পেজগুলিকেই নিশানা করা হল, তার নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
সাধারণত এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ব্যবহারের জন্য কড়া নিয়মাবলি থাকে। নির্দিষ্ট একটি অনুমোদিত মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ এবং একটি ডেস্কটপ ছাড়া অন্য কোনও ডিভাইস থেকে এই অ্যাকাউন্টে ঢোকা নিষিদ্ধ। এত সুরক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে হ্যাকাররা ভেতরে ঢুকল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তদন্তের পথে পুলিশ
হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তড়িঘড়ি পাসওয়ার্ড বদলানো হয় এবং প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট ও টাইম স্ট্যাম্প সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণগুলি খতিয়ে দেখে কোন আইপি অ্যাড্রেস থেকে এই কাজ করা হয়েছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও বড় মাপের সাইবার অপরাধ চক্রের কাজ কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।