শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যদিও অতিরিক্ত তালিকা পরে প্রকাশের সুযোগ থাকবে। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, ভোটের আগে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 25 February 2026 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) মুখে রাজ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন - শেষ পর্যন্ত কতজন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন? এসআইআর প্রক্রিয়ায় (West Bengal SIR) এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আশঙ্কা প্রকাশ করলেন, শেষ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যেতে পারে।
ভবানীপুরে জৈন সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন তিনি। সেখানেই এসআইআর (West Bengal SIR) প্রসঙ্গে বলেন, প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল, পরে ৮০ লক্ষ নামের ইঙ্গিত মিলছে। তাঁর কথায়, “সব মিলিয়ে দেখে মনে হচ্ছে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে দিতে পারে।”
শীর্ষ আদালত (Supreme Court SIR) নির্দেশ দিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যদিও অতিরিক্ত তালিকা পরে প্রকাশের সুযোগ থাকবে। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, ভোটের আগে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ, চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম থাকবে না, আপাতত তাঁদের ভোটাধিকার কার্যত স্থগিতই থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কার নাম বাদ যাচ্ছে - হিন্দু, মুসলিম, শিখ না জৈন, সেটা দেখি না। কিন্তু বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি আরও জানান, ২৮ তারিখ তালিকা প্রকাশের পর বাদ পড়া ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই বলেন, ''আমি এখানে ন্যায়ের জন্য প্রার্থনা করে যাচ্ছি, যদি সফল হই তাহলে এখানে এসে আবার মাথা ঠেকাব।''
এদিকে সময় হাতে মাত্র কয়েক দিন। এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ খতিয়ে দেখা সম্ভব কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, জুডিশিয়াল অফিসারদের দিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ করাতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেরও। কমিশন সূত্রের হিসেব, যদি এক হাজারের বেশি বিচারিক আধিকারিক দায়িত্ব নেন এবং প্রত্যেকে দিনে তাঁরা গড়ে ২৫০টি করে আবেদন পরীক্ষা করেন, তবে প্রায় ২০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে।
তবে প্রাথমিক অনুমান বলছে, আগামী কয়েক দিনে কিছু লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি হলেও ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকার আশঙ্কা রয়েছে। কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যে অসঙ্গতি এবং ৩২ লক্ষ ‘অচিহ্নিত’ নাম ঘিরে জট তৈরি হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চয়তায় মোড়া।