সঞ্জয় বারু এবার জানিয়েছেন, তাঁর মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী জোটের মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee) সবচেয়ে উপযুক্ত নেতা।

সঞ্জয় বারু-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।
শেষ আপডেট: 16 February 2026 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার (INDIA bloc) নেতৃত্ব ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের প্রাক্তন মিডিয়া উপদেষ্টা সঞ্জয় বারু (Sanjaya Baru)। সঞ্জয় যখন মনমোহনের উপদেষ্টা ছিলেন তখন মধ্যগগণে ইউপিএ সরকার। পরবর্তী কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ইউপিএ-র শরিক হন, ততদিনে বারুর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তবে হ্যাঁ, প্রাক্তন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক হিসাবে সঞ্জয় বারুর নাম ডাক তখনও ছিল জাতীয় রাজনীতিতে। সেই সঞ্জয় বারু এবার জানিয়েছেন, তাঁর মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী জোটের মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee) সবচেয়ে উপযুক্ত নেতা।
বাংলায় বিধানসভা ভোটের মুখে বারু যা বলেছেন, তা রাজনৈতিক ভাবে অর্থবহ। তৃণমূলের জন্যও ইতিবাচক বইকি। একটি সংবাদপত্রে লেখা প্রবন্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সম্পূর্ণ স্বনির্মিত, প্রথম প্রজন্মের নেতা’ বলে উল্লেখ করেছেন সঞ্জয় বারু। পাশাপাশি তাঁর যুক্তি, সোনিয়া গান্ধী–মনমোহন সিংহ মডেলকে বর্তমান কংগ্রেস যেভাবে রাহুল-মল্লিকার্জুনের যুগলবন্দির মাধ্যমে পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে তা কোনও বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না। পুরনো সেই রসায়ন এতে অমিল।
বারুর লেখাটি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ভাগ করে নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে সাগরিকা লিখেছেন, এই ভাবনার এবার সময় এসে গিয়েছে। অর্থাৎ মমতারই উচিত এবার জাতীয়স্তরে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেওয়া।
AN IDEA WHOSE TIME HAS COME. Former media advisor to PM Manmohan Singh calls for @MamataOfficial to lead the opposition INDIA alliance. https://t.co/APMaTw3e8M
— Sagarika Ghose (@sagarikaghose) February 16, 2026
‘দীর্ঘদিন মহিলা প্রধানমন্ত্রী নেই’
বাংলাদেশে যেমন দীর্ঘদিন ধরে কোনও পুরুষ প্রধানমন্ত্রী ছিল না, তেমনই বারুর মতে, বর্তমানে বিজেপি একটি পুরুষ-প্রধান রাজনৈতিক দল। সেই প্রেক্ষিতে, একজন মহিলা নেত্রীর নেতৃত্বে বিরোধী জোট গড়ে উঠলে বিজেপির সাম্প্রতিক মহিলা ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব পড়তে পারে। তাঁর কথায়, “অনেক দিন ধরেই দেশে কোনও মহিলা প্রধানমন্ত্রী নেই।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত ইন্দিরা গান্ধী।
তবে বারুর কথার পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেছেন লোকসভায় প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, সঞ্জয় বারু এখন এক অপ্রাসঙ্গিক চরিত্র। তিনি হয়তো প্রাসঙ্গিকতা খুঁজতে হাবিজাবি কথা বলছেন। আসল বিষয় হল, তৃণমূল একটি আঞ্চলিক দল। দেশ ও দশের ব্যাপারে তাদের বৃহৎ ভাবনা নেই। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানায় পশ্চিমবঙ্গের যে দুর্দশা হয়েছে, তাঁকে জোটের নেত্রী করলে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। অধীরের কথায়, এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কাউকে খুশি করার লেখার উদ্দেশ্য ও বিধেয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।
এদিনই আবার কেরলের তিরুবনন্তপুরমে আলাদা সুর শোনা গিয়েছে প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ারের গলায়। তাঁর মতে, ইন্ডিয়া জোটকে সংগঠিত করার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিনকে (M. K. Stalin) । আইয়ারের দাবি, ফেডারালিজমের প্রশ্নে স্ট্যালিন ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন এবং তিনি চাইলে রাহুল গান্ধী তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অন্তরায় হবেন না। মণিশঙ্করের বক্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত মত’ বলে কার্যত দূরে সরিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল স্পষ্ট করেন, মণিশঙ্কর বর্তমানে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত নন। একই কথা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলটও।
প্রসঙ্গত, জাতীয় স্তরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরোধিতায় ইন্ডিয়া জোটের শরিক হলেও রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস আলাদা পথেই হাঁটে। তা ছাড়া তৃণমূলের বরাবরের অবস্থান হল, বিরোধী জোটের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের দাদাগিরি মানা হবে না। কংগ্রেসও আবার যেন তৃণমূলের অবস্থান সার বুঝে গেছে। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গেলে কংগ্রেসের কোনও নেতা আগ বাড়িয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাননি। অর্থাৎ যে জোটের অবস্থা ভঙ্গুর, সেই জোটের নেতৃত্বর বিষয় নিয়ে আলোচনা কি আদৌ অর্থবহ, সেই প্রশ্নটাও থেকে যাচ্ছে।