মাধ্যমিক পাশ ছেলেমেয়েদের যদি শিক্ষিত বেকার (Bekar Bhata Scheme) হিসাবে বিবেচনা করা হয়, তা হলে বাংলার ছবিটা কি আদৌ সুখকর? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শুরু করা যুব সাথী (Yuva Sathi) তথা বেকার ভাতা (Bekar Bhata) প্রকল্প যেন সেই ছবিটাই ক্রমশ বেআব্রু করে দিচ্ছে।

শেষ আপডেট: 16 February 2026 13:45
মাধ্যমিক পাশ ছেলেমেয়েদের যদি শিক্ষিত বেকার (Bekar Bhata Scheme) হিসাবে বিবেচনা করা হয়, তা হলে বাংলার ছবিটা কি আদৌ সুখকর? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শুরু করা যুব সাথী (Yuva Sathi) তথা বেকার ভাতা (Bekar Bhata) প্রকল্প যেন সেই ছবিটাই ক্রমশ বেআব্রু করে দিচ্ছে। বেকার ভাতার জন্য নাম নথিভুক্ত (Bekar Bhata Apply) করা শুরু হয়েছে রবিবার থেকে। দ্য ওয়ালের ক্যামেরাতেই ধরা পড়েছে—স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ ছেলেমেয়েরা লাইন দিয়ে ফর্ম (Bekar Bhata Form Fill Up) জমা দিচ্ছেন। কোথাও আবার দেখা গেছে, সন্তানের জন্য ফর্ম তুলতে এসেছেন ষাটোর্ধ্ব বাবা।
ভোটের অঙ্কে শাসক দলের জন্য সেই চিত্রটা যারপরনাই উৎসাহবর্ধক। কারণ, শাসক দলের অনেকে দেখতে চাইছেন, এই ভাতা নির্ভর উপভোক্তা শ্রেণির সংখ্যাটা ঠিক কত দাঁড়ায়। কারণ, তাঁদের সাধারণ ধারণা হল, যাঁরা এই ভাতা নেবেন, আশা করা যায় ভোটের বাক্সে তাঁরা আনুগত্য জানাবেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, একই সঙ্গে ছবিটা করুণও। রাজ্যে সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবে পরিসংখ্যানই এতে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, প্রথম দিনের স্ট্রাইক রেট কেমন ছিল? অর্থাৎ জেলা ধরে ধরে কোন জেলায় কত বেকার যুবক ও যুবতী ফর্ম তুললেন ও জমা দিলেন?
সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সেই হিসাব একমাত্র পেয়েছে দ্য ওয়াল। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনেই ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৯৩-এ। সোমবার সকাল থেকে বেলা ১২ টার মধ্যে ৯১ হাজার ৫৮৭ জন আবেদন জমা দিয়েছেন।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান— (Bekar Bhara District wise Form submitted)
১৬ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নতুন আবেদন এসেছে মুর্শিদাবাদ (৯,১০৫) থেকে। এ ছাড়াও পুরুলিয়া (৮,২৩১) ও বাঁকুড়া (৭,৫৫৫) দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৫,০১০), উত্তর ২৪ পরগনা (৬,৬৩৩), হুগলি (৫,৭৪৩), পূর্ব মেদিনীপুর (৫,৭৪১) প্রভৃতি জেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে।
বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী, মাধ্যমিক পাশ করা পশ্চিমবঙ্গের যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হবে। একটানা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত এই ভাতা পাওয়া যাবে। তবে এই সময়ের মধ্যে কেউ চাকরি পেয়ে গেলে, স্বাভাবিকভাবেই প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, উচ্চশিক্ষার জন্য যাঁরা রাজ্য সরকার বা অন্য কোনও সংস্থার স্কলারশিপ পান, তাঁরাও এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন না। অর্থাৎ পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ না পাওয়া যুবক-যুবতীদের জন্যও এই ভাতা চালু থাকবে। রাজ্য বাজেটে জানানো হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে বড় অঙ্ক।