'বেকার ছেলের সঙ্গে এলাম ফর্ম ফিলআপ করতে। ছেলের বয়স ৩৪ বছর, এখনও চাকরি নেই। তাই উৎসাহ নিয়েই এসেছি।' কথাগুলো বলছিলেন যুবসাথীর ( Yuva Sathi Scheme ) লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বছর ৬০-এর বৃদ্ধ। নিজের জন্য নয়, ছেলের ভবিষ্যতের আশায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 15 February 2026 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'বেকার ছেলের সঙ্গে এলাম ফর্ম ফিলাপ করতে। ছেলের বয়স ৩৪ বছর, এখনও চাকরি নেই। তাই উৎসাহ নিয়েই এসেছি।' কথাগুলো বলছিলেন যুবসাথীর (Bekar Bhata Scheme) লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বছর ৬০-এর বৃদ্ধ। নিজের জন্য নয়, ছেলের ভবিষ্যতের আশায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বেকার ভাতা তথা যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, রাজ্যের যুবক-যুবতীদের জন্য চালু হবে নতুন বেকার ভাতা প্রকল্প 'যুবসাথী'। এর আগে রাজ্যে যুবশ্রী প্রকল্প ( Yuba Shree Scheme ) চালু ছিল, তবে এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের (Assembly Election 2026) প্রাক্কালে নতুন করে যুবসমাজকে লক্ষ্য করে এই উদ্যোগ (Bekar Bhata Apply)।
এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া। চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাম্পে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে।
শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ক্যাম্পগুলিতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে নানা ছবি। বহু যুবক-যুবতী দীর্ঘদিন ধরে চাকরির পরীক্ষায় বসেও সাফল্য পাননি, তাঁরাও লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কোথাও দেখা যাচ্ছে বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তানের জন্য ফর্ম তুলছেন, কোথাও আবার স্ত্রী এসেছেন বেকার স্বামীর জন্য আবেদন করতে।
কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের যুবসাথী (Bekar Bhata Camp) ক্যাম্পে দেখা গেল এক ষাটোর্ধ্ব অভিভাবককে, যিনি তাঁর ৩৪ বছরের বেকার ছেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে। তাঁর কথায়, 'ছেলের চাকরি নেই। তাই ভাবলাম, অন্তত এই ভাতাটা যেন পায়।'
শুরু থেকেই এই বেকার ভাতা (Bekar Bhata 2026) তথা যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক ছিল। প্রথমে অগস্ট মাস থেকে এই প্রকল্প চালুর কথা জানানো হয়েছিল। পরে সময়সীমা এগিয়ে এনে ঘোষণা করা হয়, এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকেই পরিষেবা দেওয়া হবে। সেই কারণেই তড়িঘড়ি ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া।
নবান্নের তরফে জারি হওয়া চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে—এই তথাকথিত বেকার ভাতা কোনওভাবেই ২০ বছরের জন্য নয়, সর্বোচ্চ মাত্র ৫ বছর পর্যন্তই মিলবে। অর্থাৎ কোনও যুবক বা যুবতী সর্বোচ্চ ৫ বছর এই ভাতা পাবেন। ২১ বছর বয়সে ভাতা পাওয়া শুরু হলে ৪০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে না। তাছাড়া ভাতা পাওয়ার ৫ বছরের মধ্যে চাকরি পেয়ে গেলে বা কর্মসংস্থান হয়ে গেলে তাঁর জন্য ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। শুক্রবার রাতে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, ভেরিফিকেশন থেকে শুরু করে ভাতা বন্ধ হওয়ার শর্ত পর্যন্ত সবই পরিষ্কার করা হয়েছে।