জ্বর, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা অকারণ শরীরব্যথা—এই উপসর্গগুলি ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি (প্রতীকী)
শেষ আপডেট: 15 February 2026 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশুদের ক্যানসার বিরল। কিন্তু ধরা পড়তে দেরি হলে ঝুঁকি মারাত্মক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organization) হিসেব বলছে, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ লক্ষ শিশু ও কিশোর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। জন্ম থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত বয়সে যে ক্যানসার দেখা যায় তাকে বলা হয় পেডিয়াট্রিক ক্যানসার (Paediatric Cancer)। ১৫ থেকে ১৯ বছরের ক্ষেত্রে তা অ্যাডোলেসেন্ট ক্যানসার (Adolescent Cancer)।
সবচেয়ে বেশি দেখা যায় লিউকেমিয়া (Leukemia), ব্রেন টিউমার (Brain Tumour), লিম্ফোমা (Lymphoma), নিউরোব্লাস্টোমা (Neuroblastoma) এবং উইলমস টিউমার (Wilms Tumour)।
গুরুগ্রামের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (Fortis Memorial Research Institute) পেডিয়াট্রিক হেমাটো-অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধান ডা. বিকাশ দুয়া (Dr Vikas Dua) জানাচ্ছেন, শিশুরা অনেক সময় নিজের অসুবিধা স্পষ্ট করে বলতে পারে না। ফলে ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ অসুখ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। সচেতনতা খুব জরুরি।
দীর্ঘস্থায়ী জ্বর ও ওজন কমা
শিশুদের জ্বর হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু টানা দুই সপ্তাহের বেশি জ্বর থাকলে, বারবার ফিরে এলে, বা সাধারণ ওষুধে না কমলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে যদি তার সঙ্গে ক্লান্তি, রক্তাল্পতা বা বারবার সংক্রমণ থাকে, তা হলে রক্তের ক্যানসারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
একইভাবে হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা স্বাভাবিকভাবে না বাড়া বড় সতর্কসংকেত। অনেক সময় অভিভাবকরা ভেবে নেন খাওয়ার অনীহা বা খুঁতখুঁতে স্বভাবের জন্য এমন হচ্ছে। কিন্তু শরীরের ভেতরে গুরুতর সমস্যা থাকলেও এমন হতে পারে।
ব্যথাহীন গাঁট বা অকারণ ফোলা
গলা, বগল, পেট বা কুঁচকিতে ব্যথাহীন শক্ত গাঁট অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। সংক্রমণে লিম্ফ নোড ফুলতে পারে, কিন্তু যদি গাঁট শক্ত হয়, বড় হতে থাকে বা কয়েক সপ্তাহেও না সারে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
পেট ফুলে যাওয়া বা দৃশ্যমান গাঁট কিডনি বা লিভারের টিউমারের লক্ষণও হতে পারে।
হাড়ে ব্যথা, সহজে কালশিটে
রাতে বাড়ে এমন হাড় বা জোড়ার ব্যথা, খুঁড়িয়ে হাঁটা—এসব অনেক সময় ‘বড় হওয়ার ব্যথা’ বলে এড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু হাড়ের ক্যানসার বা লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রেও এমন উপসর্গ দেখা যায়।
ঘনঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়া, ত্বকে লাল দাগ, অল্প আঘাতে কালশিটে—এসব রক্তকণিকা তৈরির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ডা. দুয়া মনে করিয়ে দেন, এই লক্ষণ মানেই ক্যানসার নয়। কিন্তু উপসর্গ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, বাড়তে থাকে বা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা যায়, তা হলে অবহেলা নয়, পরীক্ষা জরুরি।
শিশুদের ক্যানসারের ক্ষেত্রে দ্রুত শনাক্তকরণ চিকিৎসার ফল অনেকটাই বদলে দিতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং সন্দেহজনক লক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া—এই তিনটিই জীবন বাঁচাতে পারে। সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।