টানা কাশি কি শুধু অ্যালার্জির লক্ষণ? টিবি, ফুসফুস ক্যানসার, ফাইব্রোসিস—কোন লক্ষণে দ্রুত টেস্ট দরকার, কী বলছেন অ্যাপোলো চেন্নাইয়ের বিশেষজ্ঞ, জানুন।

ডক্টর অজয় নরসিংহন। অ্যাপোলো চেন্নাই
শেষ আপডেট: 13 February 2026 19:31
কাশি মানেই তা শুধু ফ্লু (Flu Virus) কিংবা অ্যালার্জি (Allergy) থেকে হচ্ছে সেটা ভেবে বসে থাকলে ভুল করবেন। টানা কাশি চলতে থাকলে সে লক্ষণ মোটেই ভাল নয়। বুকে অল্প চাপ লাগলে অবহেলা করলে চলবে না।
বেশিরভাগক্ষেত্রে কাশি (Cough) নিয়ে অবহেলা করার প্রবণতাই বেশি। যদি দু-তিন সপ্তাহের বেশি কারও কাশি থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
কাশি মানেই কী টিবি?
কখনও কখনও কাশির আড়ালে ফুসফুস টিবি (Lung TB) হতে পারে। সবচেয়ে ভুল রোগীরা যেটা করেন, কিছুদিন টিবির চিকিৎসা করে তারপর তা থামিয়ে দেন। এতে সমস্যা আরও জটিল হয়। ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স টিবি হয়ে যায়। ফলে ওষুধ দিয়েও টিবি ঠিক করা সম্ভব হয় না। তখন অসুখ জটিল আকার ধারণ করে। কাশির সঙ্গে রক্ত আসতে থাকে। ফুসফুসে পুঁজ জমে যায়, কাশির সঙ্গে রক্ত আসতে থাকে। তখন ওজন কমে দ্রুত।
অধিকাংশ রোগী মনে করেন টিবি হয়েছে মানেই সমাজের খারাপ নজরে চলে যাবেন। ছোঁয়াচে অসুখ বলে পরিবার-পরিজন ঘৃণার চোখে দেখবেন। এই ভুল ধারণা ভাঙার সময় এসেছে। আমরা এমন রোগীদের আরও নিজের করে নিই। তাকে স্নেহ ও সহানুভূতির সঙ্গে চিকিৎসা করি। রোগ সারিয়ে তোলার প্রথম শর্তই হলো, রোগীকে পুরো ট্রিটমেন্ট প্রটোকল মানতে হবে। বর্তমানে টিবি ওষুধ ও ইনজেকশনেই সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা সম্ভব।
টিবি সেরে গেলেও সমস্যা থেকে যায়?
এটা অনেকেই মনে করেন যে, পুরোপুরি হয়তো টিবি সারিয়ে তোলা যায় না। যদি দেখা যায় শুরুতেই চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে তবে টিবির জীবাণু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়। কিন্তু কিছু ছাপ ফেলে রেখে যায় ফুসফুসে। স্কার বা লাং ফাইব্রোসিস (Fibrosis) হয়ে যায়। ফলে একটা সাদা আস্তরণ পড়ে যায় ফুসফুসে।
টিবি থেকে ফুসফুস ক্যানসার হয়?
না এই সম্ভাবণা খুব কম। তবে যদি কারও ফাইব্রোসিস অনেক দিন ধরে থাকে, অর্থাৎ কারও যদি একদম শৈশবে টিবি হয় ও ফুসফুসে স্কার ২০-৩০ বছর ধরে থাকে তবে তা থেকে ক্যানসার (Cancer) হতে পারে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্কার কার্সিনোমা বলা হয়।
তবে এবসবের থেকেও ফুসফুস ক্যানসারের অন্যতম কারণ হলো ধূমপান, তামাক সেবন।
কখন ক্যানসার, কখন টিবি
শুরুটা হয় সেই কাশি দিয়েই। কিন্তু শেষটা কখনও ক্যানসার, কারও টিবি কারও আবার অন্য ফুসফুসজনিত অন্য সমস্যা। তাই প্রথমেই কোন লক্ষণে সতর্ক থাকবেন বুঝতে হবে।
প্রথমেই টিবি হয়েছে ধরে চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ভুল হতে পারে। তাই কাশি, তারসঙ্গে রক্তওঠা ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে প্রথমেই জরুরি কিছু টেস্ট করা দরকার। এক্সরে, সিটি স্ক্যান ইত্যাদি। তাই আমি বলবো, লক্ষণ থাকলে আগে ডাক্তারবাবুর কাছে আসুন, তারপর সব। রোগ দ্রুত নির্ণয় হলে নির্মূল করাও সমস্যা নয়।
যদি ক্যানসার হয়, প্রাণের ঝুঁকি কতটা?
বলবো, লক্ষণ থাকলে আগে ডাক্তারবাবুর কাছে আসুন, তারপর সব। রোগ দ্রুত নির্ণয় হলে নির্মূলও হয় দ্রুত। ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি করে ফুসফুস ক্যানসার নির্মূল করা সহজ হচ্ছে। আর রয়েছে অত্যাধুনিক কেমো থেরাপিও। শুরুতে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু হলে সার্জারি ও অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি দ্বারা ক্যানসার সারিয়ে তোলা কঠিন নয়। রোগী কোন পর্যায়ে চিকিৎসা করাতে আসছেন সেটাই বোঝার বিষয়।
রোবটির সার্জারিতে আশা
এখন এই জটিল অপারেশনেও রোবটিক সার্জারি আশা দেখাচ্ছে। অল্প কেটে বড় সার্জারি হচ্ছে। রোগীর কষ্টও কম। অল্পদিনেই সার্জারি করে রোগী বাড়ি ফেরেন, তারপর স্বাভাবিক জীবনযাপনও করতে পারেন।
ফুসফুস ট্রান্সপ্ল্যান্ট, সহজ
বর্তমানে অর্গান ডোনেশন বাড়ছে। যদি সঠিক সময়ে ডোনার পাওয়া যায় ও দ্রুত তা গ্রহীতার কাছে পৌঁছনো যায় তবে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। এখন উন্নত টেকনোলজির দ্বারা এই কঠিন কাজও করা সম্ভব। তবে আরও কিছু দিন গেলে হার্ট প্রতিস্থাপন, হাঁটু প্রতিস্থাপনের মতো ফুসফুস প্রতিস্থাপনও সহজলোভ্য হবে। সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
সাবধানে থাকতে