দ্য ওয়াল ব্যুরো: উইনিং স্কোয়াড ভাঙলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার টিমে বিশেষ কোনও বদলও নেই। মেয়র ববি হাকিম, ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, চেয়ারম্যান মালা রায়—যাঁরা ছিলেন তাঁরাই। মেয়র পারিষদেও পুরনোরাই রয়েছেন। যা দেখে অনেকেই বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টিম কলকাতায় বদল না করে আসলে বার্তা দিলেন বাকি ১১১টি পুরসভা কর্পোরেশনে।
কী বার্তা?
বার্তা একটাই, যাঁরা ছিলেন, তাঁরা ময়দানে নামুন। লড়ুন, জিতুন এবং কাজ করুন।
অতীন ঘোষ-সহ ১৩ জনকে নিয়ে মেয়র পারিষদ গঠন হবে কলকাতা পুরসভায়। সেই তালিকায় নাম রয়েছে দেবাশিস কুমার, দেবব্রত মজুমদার, তারক সিং, স্বপন সমাদ্দার, বাবু বক্সি, আমিরুদ্দিন ববি, মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, অভিজিত মুখোপাধ্যায়, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, রামপেয়ারে রাম, জীবন সাহার। মোটামুটি এঁরাই ছিলেন গত বোর্ডে।
বৃহস্পতিবার যখন কলকাতার ১৩৪ জন জয়ী তৃণমূল কাউন্সিলরকে নিয়ে মহারাষ্ট্রনিবাস হলে মমতা বৈঠক করছেন তখন হাইকোর্টে বাকি পুরসভাগুলির ভোট কবে হবে তা নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন হলফনামা জমা দিচ্ছে। অনেকের মতে, কলকাতাকে দেখিয়ে জেলা, মফস্বলের পুরসভা, কর্পোরেশনের নেতাদের বার্তা দেওয়া হল, তোমরাই হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনীতিতে এটাও একটা কৌশল। আশা জিইয়ে রাখা। হতে পারে দলের ভাবা রয়েছে অনেক পুরসভায় চেয়ারম্যান মুখ বদল করা হবে, কিন্তু আগে থেকে তা জানিয়ে দিলে সামগ্রিক ভাবে সেই এলাকায় তার প্রভাব পড়তে পারে। ভোটের সময়ে প্রভাবশালী নেতাদের গোষ্ঠীগুলি নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়ে অন্তর্ঘাত করতে পারে। তাই আগাম বার্তা দিয়ে রাখা হল, বদলের মুড নিয়ে দল চলছে না।
তবে অনেকে এও বলছেন, যে যে পুরসভায় স্থানীয় নেতাদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা-সহ জনমানসে ক্ষোভ রয়েছে সেখানে যদি এই বার্তা যায় যে যাঁরা ছিলেন তাঁরাই থাকবেন তাহলেও একটা সমস্যা হতে পারে। তবে হয়তো কালীঘাট মনে করছে, সেই অংশটা কম। তাই হয়তো কলকাতার ক্ষেত্রে টিম বদলের এক্সপেরিমেন্ট না করে উইনিং স্কোয়াডকেই মাঠে নামালেন দিদি। তিনি এও বলে দিয়েছেন, পাঁচ বছরের জন্য নিশ্চিন্ত হওয়ার জায়গা নেই, ছ’মাস অন্তর কাজের পর্যালোচনা হবে। কাজ না করতে পারলে ব্যবস্থা নেবে দল।