বুধবার মামলার শুনানির শুরুতেই রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী সময় চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেন। রাজ্যের তরফে জানানো হয়, আরও প্রস্তুতির জন্য এই মামলার শুনানির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হোক।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 12 November 2025 19:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভায় (Bidhansabha) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নিরাপত্তারক্ষীর প্রবেশ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলায় নতুন মোড়। কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) বুধবারের শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Justice Amrita Sinha) স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন, “আদালত স্পিকারের কথায় ভরসা করেই নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ বিধানসভার পালন করা উচিত।”
বুধবার মামলার শুনানির শুরুতেই রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী সময় চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেন। রাজ্যের তরফে জানানো হয়, আরও প্রস্তুতির জন্য এই মামলার শুনানির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হোক। এদিকে মামলাকারী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আইনজীবী আদালতে জানান, বিধানসভার স্পিকার, রাজ্যের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে ইতিমধ্যেই আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিচারপতি অমৃতা সিনহার মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, আদালত পূর্বে যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা অনুসরণ করা হয়নি বলে আদালত উদ্বিগ্ন। কারণ এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভার নীতি অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীর সেখানে প্রবেশের অনুমতি ছিল না।
এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১৯ নভেম্বর।
আসলে শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি বিধায়কদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিধানসভার ভিতরে এ বাহিনীর সদস্যদের প্রবেশে স্পিকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে, বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল বিধায়করা নির্বিঘ্নে পুলিশি নিরাপত্তাসহ বিধানসভায় ঢুকতে পারেন। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা।
ঘটনার সূত্রপাত, গত বছরের অগস্টে শুভেন্দু যখন বিধানসভার ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসছিলেন, তখন তাঁকে লক্ষ্য করে কিছু প্রশ্ন করতে দেখা গিয়েছিল পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কে। ওই ঘটনায় কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডাও চলে দু'জনের মধ্যে। সেই সময় তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু। এ ব্যাপারে বিজেপি বিধায়কদের নিরাপত্তা চেয়ে পদ্মশিবিরের তরফে স্পিকারকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ, এ ব্যাপারে স্পিকার কোনও কর্ণপাত করেননি। বিরোধী দলনেতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। এরপরই সেই বাহিনীর জওয়ানদের বিধানসভার অভ্যন্তরে প্রবেশের আর্জি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন শুভেন্দু।
এই সংক্রান্ত মামলার গত শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বিধানসভার অধ্যক্ষকে সকল সদস্যকে সমানভাবে দেখতে হবে। কোনও ভেদাভেদ চলবে না। নিরাপত্তা কিংবা বিশেষ সুবিধার ক্ষেত্রে আলাদা আইন হতে পারে না।