মঙ্গলবার বসিরহাট থানার পুলিশের হাতে আমিরকে তুলে দেয় বিএসএফ। নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর তাঁকে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়।

শেষ আপডেট: 14 August 2025 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানে কাজ করতে গিয়ে বাংলায় কথা বলায় বিপত্তি। বাংলাদেশি সন্দেহে মালদহের যুবককে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার উঠল অভিযোগ। কালিয়াচকের বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক আমির শেখকে সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ দু’মাস লড়াইয়ের পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভারতে ফিরলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজের খোঁজে রাজস্থানে গিয়েছিলেন আমির। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার কারণে স্থানীয় প্রশাসন তাঁকে বাংলাদেশি মনে করে নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে। এরপর দু’মাস ধরে তাঁকে আটকে রাখার পর বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, বিএসএফ তাঁকে এরপর আবার বাংলাদেশ সীমান্তে পুশব্যাক করে দেয়।
এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়, যেখানে শুধু আমির নন, মুম্বই, ওড়িশা-সহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্থার অভিযোগ তোলা হয়। বুধবার আদালতে আমিরের পক্ষের আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী জানান, রাজস্থানে আটকে রাখার পর তাঁর মক্কেলকে বিএসএফ বাংলাদেশে পাঠায়।
তবে আদালতে বিএসএফ-এর দাবি, অসাবধানতাবশত সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন আমির। ফেরার সময় কাগজপত্র না দেখাতে পারায় তাঁকে আটক করে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার বসিরহাট থানার পুলিশের হাতে আমিরকে তুলে দেয় বিএসএফ। নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর তাঁকে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে আমির বলেন, 'আমি রাজস্থানে গিয়েছিলাম রোজগারের জন্য। হঠাৎ বাংলাদেশি বলে গ্রেফতার করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। রাজস্থানে দু’মাস জেল খাটার পর আমাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।'
ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুশি আমিরের বাবা জিয়াম শেখ। বলেন, 'আমরা এতদিন ধরে কান্নাকাটি করছি। শুধু বাংলায় কথা বলার জন্যই আমার ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আধার কার্ড, সার্টিফিকেট দেখানোর পরও বাংলাদেশি বলা হয়। পরে বাংলাদেশের বিজিবি ফেরত পাঠায়। আদালতের সাহায্যে আজ ছেলেকে ফিরে পেলাম।'