মঙ্গলবার বম্বে হাইকোর্ট এক ব্যক্তির জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে একথা বলেছে। বাংলাদেশি সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ভুয়ো নথি দেখিয়ে ওই ব্যক্তি এদেশে এক দশকেরও বেশি বসবাস করছিল বলে অভিযোগ।

বিচারপতি অমিত বোরকরের বেঞ্চ বলেছে, নাগরিকত্ব আইনে বলা আছে, কে ভারতের নাগরিক এবং কীভাবে নাগরিকত্ব আয়ত্ত হয়।
শেষ আপডেট: 12 August 2025 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধার কার্ড, প্যান কার্ড অথবা একটি সচিত্র পরিচয়পত্র থাকলেই কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিক হয়ে যেতে পারেন না। মঙ্গলবার বম্বে হাইকোর্ট এক ব্যক্তির জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে একথা বলেছে। বাংলাদেশি সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ভুয়ো নথি দেখিয়ে ওই ব্যক্তি এদেশে এক দশকেরও বেশি বসবাস করছিল বলে অভিযোগ।
বিচারপতি অমিত বোরকরের বেঞ্চ বলেছে, নাগরিকত্ব আইনে বলা আছে, কে ভারতের নাগরিক এবং কীভাবে নাগরিকত্ব আয়ত্ত হয়। আধার, প্যান কার্ড এবং ভোটার আইডি হল সরকারি পরিষেবা পাওয়ার একটা মাধ্যম মাত্র, নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এই বলে বাবু আবদুল রউফ সর্দার নামে এক বাংলাদেশি সন্দেহে ধৃতের জামিনের আবেদন করে দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট।
বিচারপতি বোরকর বলেন, ১৯৫৫ সালে সংসদ একটি নাগরিকত্ব আইন পাশ করে। যেখানে নাগরিকত্ব অর্জনের স্থায়ী ও সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বলা আছে। তিনি আরও বলেন, আমার মতে, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনই প্রধান এবং নিয়ন্ত্রিত আইন যাতে ভারতীয় নাগরিকত্বের সব ধরনের উত্তর রয়েছে। এখানেই বলে দেওয়া আছে, নাগরিক কে হতে পারেন, কীভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করা যায় এবং কোন পরিস্থিতি নাগরিকত্ব হারাতে পারেন কেউ।
সেই হিসাবে কারও আধার কার্ড, প্যান কার্ড কিংবা ভোটার পরিচয়পত্র থাকলেই তিনি ভারতের নাগরিক হয়ে যান না। এগুলি হয় সাধারণ পরিষেবা পাওয়ার একটি মাধ্যম। কিন্তু এগুলি থাকলেই কেউ নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারেন না। নাগরিকত্ব আইনে যা আছে, সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অধিকারী। বেঞ্চ আরও বলে, ওই আইনেই উল্লিখিত রয়েছে কাকে আইনত নাগরিক বলে আর কাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকে। দেশের সুযোগসুবিধাগুলি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য এবং ভারতে যাদের আইনত থাকার কোনও অধিকার নেই, তাদের ক্ষেত্রে নয়।
সর্দারের জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে বলে, তাঁর নথিগুলি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশের সন্দেহ, তাঁকে জামিন দেওয়া হলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কেবলমাত্র ভুয়ো নথি তৈরি করে দিনের পর দিন ভারতে থেকে যাননি। তিনি জাল তথ্য দিয়ে নাগরিক হওয়ার তালে ছিলেন।