২০১৯ সালে প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ২০২২-এ রাজ্য অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে নতুন শূন্যপদ তৈরির কোনও বৈধতা নেই।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 4 December 2025 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উচ্চ প্রাথমিকে (Upper Primary) অতিরিক্ত শূন্যপদ মামলায় বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার (State Government)। কর্মশিক্ষা (Work Education) এবং শারীরশিক্ষা (Physical Education) বিভাগের অতিরিক্ত ১৬০০ শূন্যপদ (Supernumerary Posts) বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Justice Biswajit Basu) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ওই পদগুলিতে কোনওভাবেই নিয়োগ (Recruitment) করা যাবে না।
২০১৯ সালে প্যানেলের মেয়াদ (Panel Validity) শেষ হয়ে যাওয়ার পর ২০২২-এ রাজ্য অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে নতুন শূন্যপদ তৈরির কোনও বৈধতা (Legality) নেই। তাই ওই ১৬০০ অতিরিক্ত পদ স্বাভাবিক ভাবেই বেআইনি (Illegal) বলে অভিহিত হয় আদালতের চোখে। রাজ্য সরকারের দাবি, স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকসংখ্যার ঘাটতি (Vacancy Concern) পূরণ করতেই অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আইনের কাঠামো ভেঙে কোনও নতুন সুযোগ দেওয়া যাবে না।
মামলার শুনানিতে আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি ছিল, পুরনো প্যানেল থেকে কাউকে নিয়োগ করার সুযোগ আর নেই। সেই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা গেলে তা প্যানেলের মেয়াদ সমাপ্তির আইনকাঠামোর বিপরীত হবে। আদালত সেই যুক্তিকেই গ্রহণ করে। পর্যবেক্ষণে বিচারপতি জানান, যে প্যানেলের মেয়াদ শেষ, তার ভিত্তিতে নতুন শূন্যপদ তৈরি করা যায় না। রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াগত ভাবে ভুল (Procedural Error)।
এর সঙ্গে আদালত আরও জানায়, কর্মশিক্ষা এবং শারীরশিক্ষার ওই ১৬০০ পদে কোনও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে থাকলেও তা আর এগোবে না। অর্থাৎ, পুরো সিদ্ধান্তই কার্যত বাতিল (Cancellation) হয়ে গেল।
রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতর (School Education Department) এখনও এই রায়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, ভবিষ্যতের নিয়োগ কাঠামো (Recruitment Framework) এবং শূন্যপদ নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এটি।