প্রায় আড়াই বছরের তদন্ত শেষে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআইয়ের দাবি, রাজ্যের একাধিক পুরসভায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভয়াবহ বেনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 6 January 2026 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির রেশ এখনও কাটেনি (Major fraud in municipal recruitment)। তার মধ্যেই ফের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ। এবার কাঠগড়ায় একাধিক পুরসভা। সিবিআইয়ের চূড়ান্ত চার্জশিটে (CBI charges) উঠে এল এমন সব তথ্য, যা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
অভিযোগ গুরুতর, কেউ কেউ নাকি সাদা খাতা জমা দিয়েই পেয়ে গিয়েছেন সরকারি চাকরি!
প্রায় আড়াই বছরের তদন্ত শেষে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআইয়ের দাবি, রাজ্যের একাধিক পুরসভায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভয়াবহ বেনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তে দেখা গিয়েছে, বহু পরীক্ষার্থী পরীক্ষার খাতায় একটি শব্দও লেখেননি। তবু তাঁদের হাতে পৌঁছেছে নিয়োগপত্র। কোথাও আবার এক পদে পরীক্ষা দিয়ে অন্য পদে চাকরি, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে, দাবি তদন্তকারীদের।
সিবিআইয়ের রিপোর্ট বলছে, অন্তত ৬০০-র বেশি নিয়োগে সরাসরি অনিয়ম ধরা পড়েছে। চার্জশিটে নাম উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভার, টিটাগড়, রানাঘাট, হালিশহর, বনগাঁ, কামারহাটি, বরাহনগর, উত্তর দমদম ও দক্ষিণ দমদম।
অভিযোগ, অয়ন শীলের সংস্থা ‘এবিএস ইনফোজন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছিল।
শুধু বেসরকারি সংস্থাই নয়, আঙুল উঠছে প্রশাসনের দিকেও। সূত্রের খবর, চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন ডিরেক্টরেট অফ লোকাল বডিস (DLB)-এর ডিরেক্টর, আইএএস জ্যোতিষমান চট্টোপাধ্যায় নিয়োগ অনুমোদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সিবিআইয়ের দাবি, বহু ক্ষেত্রে অনিয়ম জেনেও তিনি নীরব ছিলেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের অভিযোগ, “পুরসভা থেকে স্কুল—নিয়োগ দুর্নীতি প্রশাসনের শিকড়ে গেঁথে গিয়েছে।” দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছে বিরোধী শিবির।
অন্যদিকে, তৃণমূলের পাল্টা সুর, “সিবিআইয়ের কাছে যদি প্রমাণ থাকে, আইনের পথেই হোক ব্যবস্থা। কিন্তু এজেন্সিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”