
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 February 2025 19:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পানাগড়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় (Panagarh Accident Case) তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। এদিকে দুটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ওই এলাকার রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ। ইতিমধ্যে জানা গেছে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবলু যাদব (Bablu Yadav)। সে এখন পলাতক।
গত রবিবার রাতে গয়ায় নাচের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় পানাগড়ের কাঁকসায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় নৃত্যশিল্পী সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের (Sutandra Chatterjee)। অভিযোগ, দুর্গাপুরের বুদবুদের একটি পেট্রোল পাম্পে তেল ভরার পর তাদের গাড়িকে ধাওয়া করে একটি সাদা গাড়ি। যে গাড়িতে কয়েকজন মদ্যপ ছিলেন। সুতন্দ্রাকে নিয়ে কটূক্তি করতে থাকে তারা। এরপরই ধাওয়া করলে দুর্ঘটনায় পড়ে সুতন্দ্রার গাড়ি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
যে গাড়ি সুতন্দ্রার গাড়ি ধাওয়া করছিল তা চালাচ্ছিলেন এই বাবলু যাদবই! সে পানাগড়েরই বাসিন্দা এবং তার গাড়ির ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানতে পেরেই বাবলুর বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু সেখানে তাঁকে বা তাঁর পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এও জানা গেছে, ১ বছর আগে বাবলুর নামে মামলা হয়েছিল থানায়। ব্যবসার কোনও ইস্যুতে সেই মামলা হয়। এখন এই ঘটনার পর সে পলাতক।
পুলিশের অনুমান, পরিবার নিয়ে কোথাও পালিয়েছে সে। এখন বাবলুর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। গাড়িতে বাকি আর কারা ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বাবলুকে পাকড়াও করা সম্ভব হলে গোটা বিষয়টি সম্পর্কে জানা যাবে।
সুতন্দ্রার মৃত্যুর ঘটনায় ইভটিজিং-এর যে অভিযোগ উঠেছে তা খারিজ করেছে পুলিশ। আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী জানান, দুটি গাড়ির রেষারেষির অভিযোগ এসেছে পুলিশের কাছে। ইভটিজিং বা কটূক্তির কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে তরুণীর মা এই যুক্তি মানতে চাননি। তাঁর কথায়, ''আমরা বারবার বলছি ঘটনাটা ইভটিজিং। গাড়ির মধ্যে মদের বোতল ও গ্লাস পাওয়া গেছে। যে ড্রাইভার নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি রেষারেষি করার ড্রাইভার নন। প্রতিবার উনিই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যান আমার মেয়েকে। আমিও ওঁর গাড়িতে করে একাধিকবার ভিন রাজ্যে গিয়েছি। হাইওয়েতে কীভাবে গাড়ি চালাতে হয়, তা উনি জানেন।''
মৃতার মায়ের আক্ষেপ, ''আমার মেয়ে বাইরের রাজ্যে গিয়ে এতদিন কাজ করছে। সেখানে সে নিরাপদ ছিল। কোনওদিন কোনও অঘটন ঘটেনি। অথচ নিজের রাজ্যেই তার কোনও নিরাপত্তা নেই।'' সোমবার ময়নাতদন্তের পর রাত পৌনে দশটা নাগাদ চন্দননগরের নাড়ুয়ায় বাড়িতে নিয়ে আসা হয় সুতন্দ্রার দেহ। সেখানে চোখের জলের সকলে শেষ বিদায় জানান তাঁদের প্রিয় মামকে। রাতেই চন্দননগরের বড়াইচন্ডীতলা শ্মশান ঘাটে সুতন্দ্রার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।