মহেশতলা বিধানসভা (West Bengal Election 2026) কার্যত ‘দাস’ পরিবারের সমার্থক হয়ে উঠেছে। তবে এবারের ভোটে দাঁড়িয়ে ‘দাস দুর্গ’ বা ‘দাস পরিবার’ শব্দবন্ধে ঘোর আপত্তি তৃণমূল প্রার্থী (TMC Candidate 2026) শুভাশিস দাসের (Subhasish Das)।

শেষ আপডেট: 4 April 2026 21:43
২০১১ সালের সেই ঝোড়ো পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে মহেশতলার (Maheshtala Assembly) লাল দুর্গে প্রথমবার ঘাসফুল ফুটিয়েছিলেন কস্তুরী দাস (Kasturi Das)। সেই থেকেই মহেশতলা বিধানসভা (West Bengal Election 2026) কার্যত ‘দাস’ পরিবারের সমার্থক হয়ে উঠেছে। তবে এবারের ভোটে দাঁড়িয়ে ‘দাস দুর্গ’ বা ‘দাস পরিবার’ শব্দবন্ধে ঘোর আপত্তি তৃণমূল প্রার্থী (TMC Candidate 2026) শুভাশিস দাসের (Subhasish Das)। 
তাঁর সাফ কথা, “এখানে কোনও আলাদা দুর্গ নেই, সবাই এক পরিবারের সদস্য— যার নাম তৃণমূল পরিবার।”
মহেশতলার নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, ২০১১ সালে কস্তুরী দাস প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন। ২০১৬ সালেও সেই ধারা বজায় থাকে। কস্তুরী দেবী মারা যাওয়ার পর ২০১৮-র উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়ী হন তাঁর স্বামী দুলালচন্দ্র দাস। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটেও দুলালবাবু প্রায় ৫৮ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। এবার অবশ্য দুলাল দাসের পরিবর্তে জোড়াফুল শিবিরের বাজি তাঁরই পুত্র শুভাশিস দাস।
২০১৫ সাল থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি শুভাশিসের। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি থেকে জোনাল প্রেসিডেন্ট, এবং ২০২২ সালে পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হওয়া— ধাপে ধাপে সংগঠন গুছিয়েই এবার বিধানসভার আঙিনায় পা রাখছেন তিনি। মহেশতলা পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৬টি নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে দুলাল দাসের মার্জিন প্রায় ৫৮ হাজার থাকলেও, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের নিরিখে ১৩ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল বিজেপি। সেই চোরা স্রোত আটকানোই এখন শুভাশিসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিন যখন তাঁর সঙ্গে দেখা হয় তখন তিনি নুঙ্গি বাজার এলাকায় জনসংযোগে ব্যস্ত। সঙ্গে রয়েছেন দলের পক্ষ থেকে মহেশতলা বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর শামিম আহমেদ। প্রচারের ফাঁকেই শুভাশিস বাবু অকপটে স্বীকার করে নিলেন মহেশতলার প্রধান কাঁটা— নিকাশি সমস্যা। দীর্ঘ ১৪ বছর তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই এলাকায় ক্ষমতায় থাকলেও কেন নিকাশির জট কাটল না? শুভাশিসের যুক্তি, “৩৪ বছর বামেরা এখানে রাজত্ব করলেও একটাও কাজ করেনি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর জঞ্জাল সাফ করার মতো এক এক করে সব সমস্যা মেটাচ্ছি।” তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই মহেশতলার ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছেছে, ‘পথশ্রী’ প্রকল্পে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে। আর নিকাশি? প্রার্থীর আশ্বাস, “সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভোট মিটলেই ড্রেনেজ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ‘মাস্টার প্ল্যান’ করা হবে।”
সহমত পোষণ করে কো-অর্ডিনেটর শামিম আহমেদের দাবি, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ যে ভাবে সরাসরি পরিষেবা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছেন, তাতে মহেশতলার মানুষ অভিষেকের নামেই ভোট দেবেন। শামিম নিজে মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী। প্রথমবার ভোটের ময়দানে লড়াই করলেও তাঁর কাঁধেই ডায়মন্ড হারবার ও মহেশতলার জয়ের ভার তুলে দিয়েছে দল। ফলে নিজের এলাকায় প্রচার সারার পাশাপাশি সময় বের করতে হচ্ছে কখনও ডায়মন্ড হারবার, কখনও মহেশতলার জন্য। এদিন যেমন সকালবেলা মগরাহাটে প্রচার সেরে বিকালে পৌঁছে গিয়েছিলেন নুঙ্গি বাজার এলাকায়। শামিম আহমেদের পাশে দাঁড়িয়ে তাই দাস পরিবারের জয়ের ধারা বজায় রেখে এবার রেকর্ড মার্জিনে জয়ের স্বপ্নে বিভোর শুভাশিস। তবে মহেশতলার জল-যন্ত্রণার স্মৃতি মুছে কি মানুষ ফের ‘দাস’ পরিবারেই আস্থা রাখবেন? সেই উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে, ইভিএম খোলার পর।

এক নজরে মহেশতলা
মোট ওয়ার্ড: ২৬ (পুরসভার মোট ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে)
২০১১-র ফলাফল: কস্তুরী দাস (তৃণমূল) জয়ী, ব্যবধান ২৪,০০০
২০২১-এর ফলাফল: দুলাল দাস (তৃণমূল) জয়ী, ব্যবধান ৫৭,৯৪৯
২০২৪ লোকসভা ট্রেন্ড: তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও ১৩ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি
এবারের লড়াই তাই শুভাশিস দাসের কাছে উত্তরাধিকার প্রমাণের পাশাপাশি খোদ সাংসদের ‘মাস্টার প্ল্যান’-এর ওপর মানুষের ভরসা অর্জনের পরীক্ষা।