শুরু হল এবছরের মাধ্যমিক। সেন্টারের বাইরে মোতায়েন থাকছে পুলিশ, অ্যাম্বুল্যান্স, আর পরীক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 February 2026 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরু হল মাধ্যমিক ২০২৬ (Madhyamik Examination)। জীবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষায় বসছে রাজ্যের প্রায় ৯ লক্ষ ৭১ হাজার পরীক্ষার্থী। সময়মতো পড়ুয়ারা যাতে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছয় এবং কোনওরকম সমস্যা না হয়, সেজন্য কড়া নজরদারি এবং বাড়তি ব্যবস্থা রেখেছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) এবং রাজ্য প্রশাসন।
২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি, ১১ দিন ধরে চলবে এ বছরের পরীক্ষা। রাজ্যজুড়ে মোট ২৬৮২টি কেন্দ্র (Centres) রয়েছে। সকাল ১০টা ৪৫ থেকে শুরু হবে পরীক্ষা; কেন্দ্রগুলির বাইরে সকাল থেকেই মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, অ্যাম্বুল্যান্স, মেডিক্যাল টিম।
কলকাতায় যান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ১৫টি রুটে চালু করা হয়েছে অতিরিক্ত বাস (Additional Buses)। স্কুল ও কলেজের সাধারণ ছুটির দিন না হলেও পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য এই বাড়তি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, ট্র্যাফিকের চাপ অনুযায়ী আরও বাস নামানো হতে পারে।
এ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের জন্য চালু হয়েছে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ হেল্পলাইন নম্বর। পুলিশের তরফে চালু করা ৯৪৩২৬১০০৩৯, আর মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০৩৩২৩২১৩৮১৩। কোনও পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট কার্ড (Admit Card) বা অন্য কোনও জরুরি নথি বাড়িতে ফেলে এলে, পুলিশ পুরোপুরি সাহায্য করবে—এই বার্তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে লালবাজার।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছেন, রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে। হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। কোথাও কোন পরীক্ষার্থীর সমস্যায় পড়লে তাদের সম্পূর্ণভাবে সাহায্য করা হবে।
পরীক্ষা চলাকালীন যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য থাকবে বিশেষ মেডিক্যাল টিম (Medical Team)। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্সও মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে এত প্রস্তুতি সত্ত্বেও পরীক্ষার শুরু হওয়ার মুখে গার্ড দেওয়া নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি পর্ষদের। কারণ, রাজ্যজুড়ে কয়েক হাজার শিক্ষক এখন ব্লক লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে আছেন। পর্ষদের তরফে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল—পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের পূর্ণ সময়ের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হোক। কিন্তু সেই চিঠির কোনও উত্তর এখনও আসেনি বলে অভিযোগ। ফলে ঠিক কত শিক্ষক পরীক্ষা কেন্দ্রে গার্ড (Guard Duty) দিতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা মাধ্যমিক। তাই কোনও রকম অসুবিধা যাতে না হয়, সে জন্য শুরু থেকেই আঁটসাঁট প্রস্তুতি প্রশাসনের। পরীক্ষার্থীদের জন্য সমস্ত সুবিধা রাখা হলেও, অভিভাবক ও পড়ুয়াদের উদ্দেশে বার্তা—আগেভাগে কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা দিন, নথিপত্র সঙ্গে রাখুন, আর অযথা ভিড় বা দেরি এড়িয়ে চলুন।