দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৬ সালে অসমের পুলিশ গ্রেফতার করতে গিয়েছিল মধুবালা দাসকে। অভিযোগ, তিনি বিদেশী। অসমের চিরাং জেলায় বিষ্ণুপুর গ্রামে বেআইনিভাবে বসবাস করছেন। পুলিশ যখন তাঁকে ধরতে যায়, ততদিনে তিনি মারা গিয়েছেন। তাঁকে না পেয়ে পুলিশ গ্রেফতার করে আনে মধুবালা মণ্ডলকে। তিনি ভারতীয় নাগরিক। তাঁকে মধুবালা দাসের বদলে আটকে রাখা হয় কোকরাঝোড় ডিটেনশন ক্যাম্পে। তিন বছর বাদে ভুল স্বীকার করেছে এনআরসি কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তি পেয়েছেন মধুবালা মণ্ডল।
বুধবারই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছে অসমের ১ লক্ষেরও বেশি বাসিন্দার নাম। রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতীয় নাগরিকপঞ্জির পক্ষে মুখ খুলেছেন। তার পরদিনই জানা গেল, ভুল করে তিন বছর আটকে রাখা হয়েছে ৫৯ বছরের এক বিধবাকে। একদিন পুলিশ আচমকাই তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। পরিবারে তিনি একা উপার্জন করতেন। তাঁর একটি মূক-বধির মেয়ে আছে। তার বিয়ে হয়েছিল। স্বামী তাকে পরিত্যাগ করেছে।
মধুবালা মণ্ডল অত্যন্ত দরিদ্র। লেখাপড়াও জানেন না। একটি সূত্রে খবর, পুলিশ যখন তাঁকে ধরতে আসে, তিনি ভালো করে বোঝাতেই পারেননি যে, তাঁর নাম মধুবালা দাস নয়। পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পরে চিরাং জেলার কয়েকজন সমাজকর্মী ঘটনাটি জানতে পারেন। তাঁরা মধুবালা মণ্ডলের কথা অসম সরকারকে জানান। তখন শুরু হয় তদন্ত। তাতে লেগে যায় কয়েক বছর। শেষে জানা যায়, তাঁকে ভুল করে আটকে রাখা হয়েছে। সরকার তখন অসম পুলিশকে নির্দেশ দেয়, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে, ভুল করে একজনকে আটকে রাখা হয়েছে।
চলতি মাসেই জানা গিয়েছিল, শোণিতপুর জেলার ধোলাইপুরের বাসিন্দা অমিলা শাহকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বিদেশী বলে ঘোষণা করেছে। তিনি ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন। কিন্তু ৪০ বছরের অমিলার ভাইবোনেরা সকলে ভারতীয় নাগরিক হিসাবে জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে স্থান পেয়েছেন।
অমিলা শাহের দাবি, তাঁদের পরিবার ব্রিটিশ আমল থেকে অসমে বসবাস করছে। বহু আগে তাঁর পূর্বপুরুষরা থাকতেন বিহারে। অমিলার ভাই রমেশ গুপ্ত বলেন, আমরা গরিব। লেখাপড়াও বেশি জানি না। কিন্তু অমিলাকে বিদেশী বলে চিহ্নিত করার বিরুদ্ধে গুয়াহাটি হাইকোর্টে আবেদন করব। গত মাসে মহম্মদ সানাউল্লা নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সৈনিককে বিদেশী বলে চিহ্নিত করা হয়। পরে গুয়াহাটি হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়।