কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে (South Calcutta Law College) আইনের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল গোটা রাজ্যে। ‘নির্যাতিতা’ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী। অভিযুক্তেরা শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের নেতা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 29 June 2025 00:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা গণধর্ষণকাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্য তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra)। দল ইতিমধ্যেই সেই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মন্তব্যের ব্যখ্যা দিলেন মদন মিত্র। তাঁর কথায়, "আমি কোনওভাবেই দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করিনি।"
কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে (South Calcutta Law College) আইনের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল গোটা রাজ্যে। ‘নির্যাতিতা’ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী। অভিযুক্তেরা শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের নেতা। শুক্রবার থেকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিতর্ক। "মেয়েটি যদি ওখানে না যেত তাহলে এরকম ঘটনা ঘটত না। গেছিল যখন অন্তত কয়েকজন বন্ধুকে বলে বা সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারত। তাহলে এমন হত না। অভিযুক্তরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।" তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) এই মন্তব্যকে ঘিরেই বিতর্ক শুরু হয়।
কসবাকাণ্ডে (Kasba Law College) বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে দলের বর্ষীয়ান সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। এরপরই তৃণমূলের তরফে সোশ্যাল মাধ্যমে টুইট করে জানিয়ে দেওয়া হয় 'এই ধরনের মন্তব্য তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত। দলের অবস্থানের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। দল এই মন্তব্যগুলিকে সমর্থন করে না এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এই ধরনের বক্তব্য কোনওভাবেই দলের অবস্থান প্রতিফলিত করে না।'
এরপরই টুইটে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে মদন জানান, "আমি ইতিমধ্যেই দলীয় বিবৃতি পড়ে নিয়েছি। দলের উচ্চনেতৃত্বকে অনুরোধ করছি আমাকে ভুল না বোঝার জন্য। প্রয়োজনে আমি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে আমার বক্তব্য ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত।" আরও যোগ করেন, "আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দল কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি আবার বিবেচনা করবে।"
কামারহাটি তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, তাঁর বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে। একটা বিশেষ গোষ্ঠী তাঁর মন্তব্যের অপব্যাখ্যা করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, 'দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনমতের বিরুদ্ধে কখনও কিছু করেননি।' কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, কসবাকাণ্ডে মদন ও কল্যাণ প্রসঙ্গে দলের টুইটকে রিটুইট করে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র লেখেন, "মহিলাদের প্রতি বিদ্বেষ ভারতীয় রাজনীতিতে এমন এক সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যা দলমত নির্বিশেষে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু আমাদের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে পার্থক্য হল, আমরা এই ধরনের মন্তব্য যে-ই করুক না কেন, তার তীব্র নিন্দা করি।"
Misogyny in India cuts across party lines. What differentiates @AITCofficial is that we condemn these disgusting comments no matter who makes them. https://t.co/2AQ59fQK4w
— Mahua Moitra (@MahuaMoitra) June 28, 2025
গত বুধবার সন্ধ্যায় কসবা আইন কলেজের গার্ড রুমে আটকে রেখে নির্যাতিতাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের এক ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারিণী নিজেও শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের কর্মী। বৃহস্পতিবার রাতে থানায় অভিযোগ করেন নির্যাতিতা। এরপরই তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তথা আইনজীবী মনোজিৎ মিশ্র এবং কলেজের দুই বর্তমান পড়ুয়া জইব আহমেদ এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার গ্রেফতার করা হয় কলেজের এক নিরাপত্তা রক্ষীকেও।