কল্যাণ কাদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন? তৃণমূলের মধ্যে কারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত? এই কৌতূহল নিরসনের জন্য দ্য ওয়ালের তরফে ফোন করা হয়েছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ছ’বার রিং করার পর কল্যাণবাবু কল ব্যাক করেন।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 28 June 2025 23:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা কাণ্ডের (Kasba Law college rape) সূত্র ধরে শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। সেই বিস্ফোরণের কম্পন এমনই যে দক্ষিণে কাকদ্বীপ থেকে উত্তরে শিলিগুড়ি পর্যন্ত তা অনুভূত হয়েছে। কারণ, কল্যাণ স্পষ্ট কথায় বলেছেন, “২০১১ সালের পর যাঁরা নেতৃত্বে এসেছেন, তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ এমন সব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগের মুখে পড়েছেন। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমি কোনওভাবেই তাঁদের পাশে নেই, যাঁরা এই অপরাধীদের উৎসাহ দিচ্ছেন বা রক্ষা করছেন। আমার বক্তব্য ও অবস্থানের অন্তর্নিহিত মানে বোঝার জন্য একধরনের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংহতি প্রয়োজন — যা দুঃখজনকভাবে অনেকের মধ্যেই অনুপস্থিত।”
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, কল্যাণ কাদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন? তৃণমূলের মধ্যে কারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত? এই কৌতূহল নিরসনের জন্য দ্য ওয়ালের তরফে ফোন করা হয়েছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ছ’বার রিং করার পর কল্যাণবাবু কল ব্যাক করেন। শ্রীরামপুরের সাংসদ কী ব্যাখ্যা দিলেন তা জানার আগে প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন।
কসবাকাণ্ড নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শুক্রবার কল্যাণ বলেছিলেন, “নিরাপত্তা ব্যবস্থা তো আছেই। কিন্তু যদি একজন বন্ধু তাঁর বান্ধবীকে ধর্ষণ করে, সেখানে নিরাপত্তা কী করতে পারে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে যদি এই ঘটনা ঘটে, সেখানে কি পুলিশ থাকবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তো পুলিশ দাঁড় করানো যায় না।” কল্যাণের সেই মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এরপর আবার শনিবার কল্যাণ বলেন, তৃণমূলে কিছু ভুসিমাল ঢুকে পড়েছে। কসবাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফাঁসি হওয়া প্রয়োজন।
পর পর দুদিন কল্যাণ এভাবে মুখ খোলার পরই শনিবার সন্ধেয় তৃণমূলের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলা হয়, “দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজে সংঘটিত ভয়ঙ্কর অপরাধ নিয়ে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্র যে মন্তব্য করেছেন, তা তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, এই মন্তব্যগুলির সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই এবং দল এই বক্তব্যগুলিকে তীব্রভাবে নিন্দা করে। এই মতামতগুলি কোনওভাবেই দলের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না”।
তার কিছুক্ষণ পর পাল্টা পোস্ট করেন কল্যাণ। তাতে তিনি খোলাখুলি বলেন, “এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলের পোস্টের সঙ্গে আমি একেবারেই একমত নই। তাঁরা কি পরোক্ষে সেই নেতাদেরই সমর্থন করছেন, যাঁরা অপরাধীদের আড়াল করছেন?” কল্যাণের কথায়, “শুধু একাডেমিক বা তাত্ত্বিক বক্তব্য দিয়ে বাস্তবে কোনও পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, যদি না অবিলম্বে সেইসব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাঁরা সরাসরি দায়ী।” এরপরই কল্যাণ ২০১১ সালের প্রসঙ্গ তোলেন।
কল্যাণ কাদের অপরাধী বলতে চেয়েছেন, বা কারা অপরাধীদের আড়াল করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কারও নাম বলিনি, যাঁরা পিঠ পাতবেন তাঁদের উদ্দেশেই বলেছি।” এখানে একটা বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূলের এক্স হ্যান্ডেল আই-প্যাকই পরিচালনা করে। এবং দলের মধ্যে অনেকের ধারণা হল, আই প্যাক মানেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে গোটা ব্যাপারটা এখন অভিষেক বনাম কল্যাণ হয়ে গেল সেই প্রশ্ন দলের ভিতরে বাইরে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। ফলে মনে করা হচ্ছে, এই জল হয়তো অনেক দূর পর্যন্ত গড়াবে।